মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনছেন বিদ্রোহী সাংসদরা। এবার দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে নিয়েই সরব হলেন চারবারের সাংসদ শতাব্দী রায়। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছরে ‘দিদি বদলে গিয়েছিলেন’ এবং দলের সাধারণ সাংসদদের কথা আর শোনা হত না।
এক সাক্ষাৎকারে শতাব্দী রায় বলেন, তাঁর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেগের সম্পর্ক থাকলেও মানুষের জন্য কাজ করাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, দলের মধ্যে কেবলমাত্র কিছু নির্দিষ্ট নেতারই নেতৃত্বের কাছে পৌঁছনোর সুযোগ ছিল, বাকিদের মতামত গুরুত্ব পেত না।
শতাব্দী রায়ের কথায়, ‘আমাদের কথা কেউ শুনত না। মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছি, কিন্তু দলের মধ্যে সেই সুযোগ পাইনি। শুধুমাত্র বাছাই করা কয়েকজন নেতারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছনোর সুযোগ ছিল।’ বিদ্রোহী শিবিরের অন্যান্য সাংসদদেরও একই অভিযোগ। তাঁদের দাবি, রাজ্য সরকারের মন্ত্রীদের কাছেও সাধারণ সাংসদদের কথা বলার সুযোগ ছিল না। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করা হত না। বরং কোনও প্রশ্ন তুললে চুপ করে থাকতে বলা হত।
তৃণমূলের দুর্বল সময়ে কেন তাঁরা এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আনছেন, সেই প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন শতাব্দী রায়। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে দলের অভ্যন্তরে কী ঘটছে, তা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাই নিজের কেন্দ্রের মানুষের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। মমতার সঙ্গ ছাড়ার কারণ হিসেবে দুর্নীতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী-সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের নিচুতলা থেকে ওপরতলা পর্যন্ত দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই পরিস্থিতি দেখে তিনি অত্যন্ত হতাশ হয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, নিজের ভাবমূর্তি পরিচ্ছন্ন এবং তা রক্ষার জন্য কোনও রাজনৈতিক দলের আশ্রয়ের প্রয়োজন তাঁর নেই।
অন্যদিকে, রাজ্যসভার সাংসদ পদ এবং দল থেকে ইস্তফা দেওয়া সুখেন্দু শেখর রায়-ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, দলের মধ্যে তাঁদের কোনও গুরুত্বই ছিল না। ‘আমরা ওদের কাছে ফালতু মানুষ ছিলাম। আমাদের কথা কেউ শুনত না’, বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিদ্রোহী সাংসদদের এই ধারাবাহিক অভিযোগে তৃণমূলের অন্দরের অসন্তোষ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দুর্নীতি, নেতৃত্বের নাগাল না পাওয়া এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা— এই তিন ইস্যুকেই সামনে রেখে এখন শাসকদলের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছেন দলত্যাগী নেতারা।
