UPSC Success Story Mental Tips: ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস নেহাতই একটি পরীক্ষা নয়, এটা আদতে ধৈর্য ও অধ্যাবসায়ের ‘মূল্যায়ন’ করে থাকে। যাঁরা ধৈর্য হারান না, শেষপর্যন্ত জয় তাঁদেরই হয়। এমনই এক অদম্য লড়াইয়ের উদাহরণ হলেন উত্তরপ্রদেশের আকাশ সিংঘল। ২০২৫ সালের ইউপিএসসি ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস পরীক্ষায় ভারতে একাদশ র্যাঙ্ক অর্জন করেছেন তিনি। তবে এই সাফল্যের পিছনে লুকিয়ে রয়েছে টানা তিন বছরের ব্যর্থতা এবং এক কঠিন মানসিক লড়াইয়ের গল্প।
আকাশের প্রস্তুতি, ব্যর্থতার অন্ধকার ও কঠিন সংকল্প
২০২১ সাল থেকে আকাশ সম্পূর্ণভাবে ইউপিএসসির প্রস্তুতি শুরু করেনছিলেন। তিনি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা (CSE) এবং ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস (IFoS) উভয় পরীক্ষার জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু প্রথম থেকেই পথটা সহজ ছিল না। প্রথম তিনটি চেষ্টায় আকাশকে একের পর এক বড় ধাক্কা খেতে হয়। তিনি দু’বার সিভিল সার্ভিস (মেইনস পরীক্ষা পর্যন্ত পৌঁছেও ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাক পাননি। অন্যদিকে, ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস (IFoS) পরীক্ষায় টানা তিন বছর তিনি প্রিলিমিনারি পরীক্ষার গণ্ডি পার করতে পারেননি। একবার তো সি-স্যাট (CSAT) পেপারের কোয়ালিফাইং কাট-অফ নম্বর থেকে মাত্র এক নম্বরের জন্য ছিটকে গিয়েছিলেন।
বন্ধুর পরামর্শ ও স্ট্র্যাটেজি পরিবর্তন
টানা ব্যর্থতায় যখন আকাশ চরম হতাশায় ভুগছিলেন এবং প্রস্তুতি ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছিলেন, ঠিক তখনই তার জীবনে এক বন্ধু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছিলেন। ওই বন্ধু বলেছিলেন, ‘তুমি অন্য কোনও সাধারণ চাকরির জন্য তৈরি হওনি, ঈশ্বর তোমায় ইউপিএসসিতে বড় কিছু করার জন্যই পাঠিয়েছেন।’ বন্ধুর এই একটি কথাই আকাশের মনের ভিতর আবার লড়াইয়ের আগুন জ্বালিয়ে দেয়।
আকাশ বুঝতে পারেন, শুধু কঠোর পরিশ্রম নয়, এবার কৌশলে পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি তাঁর স্ট্র্যাটেজি পুরোপুরি বদলে ফেলেন। ২০২৫ সালের পরীক্ষার জন্য তিনি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার ছেড়ে সম্পূর্ণ মনোযোগ ঢেলে দেন ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস (IFoS) পরীক্ষার ওপর। বিগত বছরগুলোর ভুলত্রুটিগুলো শুধরে নিয়ে তিনি নতুন উদ্যমে সেলফ-স্টাডি শুরু করেন। আর এই সিদ্ধান্তই তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। চতুর্থ অ্যাটেম্পটে তিনি শুধু সফলই হননি, একেবারে দেশজুড়ে ১১তম স্থান অধিকার করেন।

ভবিষ্যৎ পরীক্ষার্থীদের জন্য আকাশের বিশেষ পরামর্শ
আকাশের মতে, ইউপিএসসির মতো পরীক্ষায় সফল হতে গেলে শুধু রাতদিন বই মুখে দিয়ে বসে থাকলেই চলে না, দরকার হয় ‘স্মার্ট স্টাডি’-র। নিজের শক্তির জায়গা এবং দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে পড়াশোনা করা উচিত। এছাড়াও এই দীর্ঘ এবং কঠিন যাত্রায় পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আকাশ জানিয়েছেন, কঠিন সময় পরিবার তাঁকে যেভাবে মানসিক, আর্থিক এবং আবেগগত সহযোগিতা জুগিয়েছিল, সেটা না থাকলে আজকের এই দিনটি দেখা সম্ভব হত না।