মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে কেরোসিন সংক্রান্ত নিয়ম শিথিল করল ভারত সরকার। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ২১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে কেরোসিন তেল (সুপিরিয়র কেরোসিন তেল) বণ্টনের ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। আর সেই কাজটা মসৃণভাবে করার জন্য আপাতত তৈল বিপণন সংস্থাগুলিকে নিজেদের পেট্রোল পাম্পে ২,৫০০ লিটার পর্যন্ত কেরোসিন তেল রাখার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং এলপিজি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার যে টানাটানি তৈরি হয়েছে, সেটা মাথায় রেখেই এরকম নিয়ম শিথিল করার পথে হেঁটেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
৬০ দিনের জন্য পেট্রোল পাম্প থেকে কেরোসিন বিক্রি
রবিবারের বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ৬০ দিনের জন্য তেল বিপণন সংস্থাগুলি পেট্রোল পাম্পের মাধ্যমে কেরোসিন সরবরাহ করতে হবে। সেজন্য পেট্রোলিয়াম আইনের নিয়ম শিথিল করে দেওয়া হয়েছে। বাড়িতে রান্নার জন্য ২১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কেরোসিন প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে জানানো হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।

৯৩৯ টাকার রান্নার গ্যাস ২,৮০০ টাকায়
আর সেই পুরো সংকটের নেপথ্যে আছে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ। সেই যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরূদ্ধ হয়ে আছে। তাও ভারতের জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার হতে দিচ্ছে ইরান। কিন্তু তাতেও উদ্বেগ কাটছে না। তার জেরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন একশ্রেণির ব্যবসায়ী। এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, তিন গুণ দামে কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৪.২ কেজি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের। কলকাতায় যেখানে ১৪.২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৯৩৯ টাকার মতো, সেখানে কালো বাজারে ২,৮০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।