বাংলাদেশে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসের নশংস হত্যার প্রতিবাদে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বাংলাদেশি হিন্দুরা। তবে সেই সংগঠনের প্রতিবাদের পালটা বিক্ষোভ দেখায় খলিস্তানি বিচ্ছিনতাবাদীরা। সেখানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে ইউনুস সরকারের ঢাল হয়ে দাঁড়ায় খলিস্তানিরা। তারা বিভিন্ন উস্কানিমূলক স্লোগানও দেয় হিন্দুদের বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে লন্ডন পুলিশ।
উল্লেখ্য, ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকে ভারত বিরোধী বাংলাদেশিদের প্রতি সমর্থন জানায় খলিস্তানি জঙ্গি নেতা গুরপতবন্ত পান্নুন। এমনকী আমেরিকায় বসে ভারতের উত্তরপূর্ব রাজ্যগুলিকে ভেঙে নয়া দেশ গড়ার ডাক দিয়েছে পান্নুন। এতদিন ধরে পঞ্জাবকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চাওয়া পান্নুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করে সম্প্রতি। তাতে দেখা গিয়েছে, অসম এবং মেঘালয়ের একটা বড় অংশ, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড মিলে একটি নতুন দেশ হবে। সেই তথাকথিত দেশের নাম আবার ‘ট্রাম্পল্যান্ড’ রেখেছে পান্নুন। এছাড়া অরুণাচলপ্রদেশকে চিনের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে সেই মানচিত্রে। এর আগে হাসনাতের মতো বাংলাদেশি কট্টরপন্থী নেতারা ভারতের উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলিকে বিচ্ছিন্ন করার ডাক দিয়েছিল। এবার ভাতর বিরোধী বাংলাদেশি কট্টরপন্থীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে খলিস্তানিরাও।
প্রসঙ্গত, এই পান্নুন বিভিন্ন সময় ভারতের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দেয়। ২০২৩ সালে ক্রিকেট বিশ্বকাপের সময় স্টেডিয়ামে এবং বিমানে হামলার হুমকি দিয়েছিল পান্নুন। নিয়মিত পাকিস্তানি চ্যানেলে উপস্থিত হয়ে ভারত বিরোধী বক্তব্যও রাখে পান্নুন। এরই মাঝে ২০২৫ সালের স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে বাধা দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছিল মার্কিন নিবাসী খলিস্তানি জঙ্গি। ১০ অগস্ট পাকিস্তানের লাহোর প্রেস ক্লাবে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এই পুরস্কারের ঘোষণা করেছিল সে। এই আবহে গত সেপ্টেম্বর মাসে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের (ইউএপিএ) প্রাসঙ্গিক ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল গুরপতবন্ত সিং পান্নুনের বিরুদ্ধে।
