বাংলাদেশি কট্টরপন্থী নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই সেই দেশে চরম ভারত বিরোধিতার ঢেউ আছড়ে পড়েছে। ভারতীয় হাইকমিশন এবং সহকারী হাইকমিশনগুলিতে হামলার চেষ্টা করেছে কট্টরপন্থীরা। দাবি করা হয়, ওসমান হাদির হত্যাকারী নাকি ভারতে পালিয়ে চলে গেছে। এমনকী হাদির মৃত্যুর জন্য ভারতকে দায়ী করা হয়। এই পরিস্থিতিতে হাদির হত্যাকারীদের ধরার জন্য ইউনুস সরকারের ওপর চাপ দিয়ে সম্প্রতি নতুন করে বিক্ষোভ শুরু করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। ২৭ ডিসেম্বর সেই বিক্ষোভস্থলে এসেই বড় দাবি করলেন ইউনুস সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি দাবি করলেন, ‘হাদির খুনিদের নাকি ভারত থেকে ফেরানো হবে।’
রিজওয়ানা বলেন, ‘আমরা এমন একটি চার্জশিট দিতে চাই, যাতে কোথাও কোনও ফাঁকফোকর না থাকে। তদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা ও প্রমাণ যাচাই শেষ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের মধ্যেই দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। হত্যাকাণ্ডের কিছু আসামি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তবে তাদের বিচার এড়িয়ে যাওয়ার কোনও সুযোগ থাকবে না। এই বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে কথা বলা হয়েছে। ভারত আশ্বাস দিয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধে আসামিদের খুঁজে পাওয়া গেলে তাদের ফেরত পাঠাতে সহযোগিতা করবে। পালিয়ে গেলেই দায়মুক্তি নয়। প্রয়োজনে অনুপস্থিতিতেও বিচার প্রক্রিয়া এগোবে। একইসঙ্গে আমরা চেষ্টা করছি, যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে বলে ধারণা, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের সামনে দাঁড় করানো হবে।’
যদিও এর আগে বাংলাদেশের পুলিশের অতিরিক্ত আইজি খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, হাদির হত্যাকারী ফয়সল করিম বাংলাদেশের সীমান্ত পার হয়ে গেছেন কি না, তা নিয়ে তাদের কাছে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য নেই। এমনকী তিনি এও বলেন, ‘অনেক সময়ই তন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়।’ অর্থাৎ, পুলিশের দাবি, তাদের বিভ্রান্ত করতে ভুয়ো দাবি করা হয়ে থাকতে পারে যে ফয়সাল ভারতে।

উল্লেখ্য, ওসমান হাদিকে গুলি করা হয় গত ১২ ডিসেম্বর। ১৮ ডিসেম্বর ওসমান হাদির মৃত্যু হয়েছে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে। এই ঘটনা সামনে আসার পরপরই বাংলাদেশ জুড়ে তাণ্ডব শুরু হয়। ইনকিলাব মঞ্চের সমর্থক এবং হাসিনা বিরোধীরা ঢাকা, রাজশাহী সহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ঢাকার ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের ধ্বংসস্তূপে ফের হামলা হয়। ধরানো হয় আগুন। এদিকে বাংলাদেশের সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’ এবং ‘ডেইলি স্টার’-এর অফিসেও তাণ্ডব চালানো হয় এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। হামলা হয় উদীচী এবং ছায়ানটের মতো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে। পাথর ছোড়া হয়েছিল চট্টগ্রামে অবস্থিত ভারতীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনে।