১৯৯৯ সালের গ্রীষ্মকালে কার্গিলের পাহাড়ে নিজেদের পোস্টে যেতে গিয়ে ভারতীয় সেনা বুঝতে পেরেছিল, সেগুলি শীতকালেই দখল হয়ে গিয়েছে। এরপর হয়েছিল রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধ। তাতে ভারত জয়ী হলেও শহিদ হয়েছিলেন বহু সেনা। সেই অতীত অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা নিয়েছে ভারত। এই আবহে শীতের মরশুমে বরফে ঢাকা উপত্যকায় চলছে জঙ্গি নিধন অভিযান। তুষারে ঢাকা উপত্যকা দিয়ে যাতে জঙ্গিরা অনুপ্রবেশ না করতে পারে, তার জন্য বিগত একসপ্তাহ ধরে অপারেশন চালাচ্ছে সেনা। এমনই দাবি করা হল রিপোর্টে। জানা যাচ্ছে, কাশ্মীরে জইশ জঙ্গিদের ধরতে এই অভিযান শুরু হয়েছে। এরই সঙ্গে জইশের স্থানীয় কমান্ডারকেও ধরার চেষ্টায় আছে সেনা। এছাড়া হিজবুল মুজাহিদিনের কমান্ডারের খোঁজও করছে সেনা।
রিপোর্ট অনুযায়ী, কাশ্মীরে জইশের স্থানীয় কমান্ডার হল সাইফুল্লা। এদিকে তার বিশেষ সহযোগী হল আদিল। মনে করা হচ্ছে, এই দু’জনেই এখন কিশতওয়ারের দোদা অঞ্চলের পাহাড়ে লুকিয়ে আছে। এই জঙ্গিদের একেক জনের মাথার দাম ৫ লাখ টাকা করে। এই আবহে কিশতওয়ারের ছাত্রু নামক গ্রাম থেকে এই তল্লাশি অভিযান শুরু করে সেনা। এছাড়া দোদা অঞ্চলের সেওজধারেও চিরুনি তল্লাশি চলছে। পাশাপাশি কিশতওয়ারের কেশবন এলাকাতেও অভিযান চলছে।
জানা গিয়েছে, ছাত্রু গ্রাম এবং আশেপাশের এলাকায় সেনার এই অভিযান বিগত এক সপ্তাহেরও বেশই সময় ধরে চলছে। এই অভিযানে জঙ্গিদের সাহায্য করা স্থানীয়দেরও খোঁজ চলছে বলে জানা গিয়েছে। কেশবনের অভিযান অবশ্য শুরু হয় ২৭ ডিসেম্বর। আজ, ২৮ ডিসেম্বরও সেখানে অভিযান জারি থাকবে। এই গোটা অভিযানে প্রায় ২০০০ সেনা জওয়ান নিযুক্ত আছে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয়রাও সেনাকে সাহায্য করছে অভিযানে। এদিকে অপর এক অভিযানে কিশতওয়ারের পাদ্দের সাবডিভিশনে হিজবুল জঙ্গি কমান্ডার জাহিঙ্গীর সারুরির খোঁজ শুরু করেছে সেনা। এছাড়াও তার দুই সহযোগী মুদ্দাসির এবং রিয়াজেরও খোঁজ চালানো হচ্ছে। এদের একেকজনের মাথার দাম ১০ লাখ টাকা করে।
