চলতি বছর দেব ও রানা সরকার এক হয়ে তাঁদের ছবি ‘ধূমকেতু’ মুক্তি দিয়েছিল। সেই ছবি বক্সঅফিসেও ঝড় তুলেছিল। ‘ধূমকেতু’ এক সপ্তাহে প্রায় ১৫ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা ব্যবসা করেছিল বলে নির্মাতা দাবি করেছিলেন। তারপর আসে ‘রঘু ডাকাত’ সেখানেও নির্মাতাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় ছবিটি প্রচুর আয় করেছে। কিন্তু নানা সময় বক্সঅফিসের এই তাক লাগানো কালেশনকে অনেকেই মিথ্যে বা ফেক বলে দাবি করেন। সেই প্রসঙ্গে কিছু দিন আগেই এক সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছিলেন দেব।
তিনি আনন্দলোককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘সত্যি মিথ্যে বলে কিছু হয় না। পৃথিবী জুড়ে এই নিয়মটা হচ্ছে। এখন ধুরন্ধর যে কালেকশন দেখাচ্ছে তাঁর সত্যি মিথ্যে দেখতে যাচ্ছে কেউ? কিন্তু বিশ্বাস করছে। এই খেলাটা পুরো ধারণার। এই খেলাটা শুরু হয়ে গিয়েছে। আমরা আগে রাত জেগে টেস্ট ম্যাচ দেখতাম। এখন ২০-২০। এটাই ফরম্যাট। তাই না চাইলেও সকালে ঘুম থেকে উঠে স্যোশাল মিডিয়ায় বলতে হচ্ছে কালেকশন তো ভালো। ছবি চলুক না চলুক কেউ জিজ্ঞাসা করবে না, কটা ১০০টা হাউসফুল না ২০০টা হাউজফুল শেষ নম্বরটাই কথা বলে।’
নায়ক তথা প্রযোজক দেবের মতে, ‘আসলে ধরণা তৈরি হয়। রেটিং কেনা যায় বর্তমানে, রিভিউ কেনা যায় এটা কিন্তু নিউ নরম্যাল। এটাও নিউ নরম্যাল।’ আর এবার এর পাল্টা যুক্তি দিলেন রানা সরকার।
তিনি শনিবার একটি পোস্ট শেয়ার করে লেখেন, ‘বক্সঅফিস ফিগার বাড়িয়ে বলা কোনও নিউ নরম্যাল না, এটা হল বক্সঅফিস থেকে কারও ছবি টাকা তুলতে পারছে না, বা টেলিভিশন স্যাটেলাইট রাইট বিক্রি হচ্ছে না সেটা লুকিয়ে ফেলার একটা ব্র্যান্ড বিল্ডিং এক্সারসাইজ। সারা দেশে শুধু দক্ষিণ ভারত আর পাঞ্জাব ছাড়া সব ফিল্ম ইন্ডাস্টিতেই হয়।’তিনি আরও লেখেন, ‘ভাবতে পারেন গত দু’বছরে সুপারহিট কতগুলো বাংলা সিনেমা কোনও টেলিভিশন চ্যানেলে দেখানো হয়নি, কেন হয়নি? কারণ টেলিভিশন চ্যানেলগুলো যে টাকায় সিনেমা কিনবে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে সেই টাকা উঠবে না। এত বড় টেলিভিশন চ্যানেল কর্তৃপক্ষ কি বোকা যে তাঁরা জানেনা বক্সঅফিসে কত ব্যবসা করেছে কোন সিনেমা, সেটা চ্যানেলে চালালে ব্যবসা কত করবে?’রানা শেষে লেখেন, ‘আমরা আমাদের ট্যালেন্টদের ব্যর্থতা লুকিয়ে মার্কেট রেট বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করছি, ব্র্যান্ড বিল্ডিং হচ্ছে, তাতে বিনিয়োগের টাকা ফেরত আসছে না, প্রযোজক ডুবে যাচ্ছে। বাস্তব চিত্র বুঝুন, প্রযোজকের টাকায় দাদাগিরি বেশিদিন টিকবে না কিন্তু।’
