মায়ানমারে আজ প্রথম দফার নির্বাচন। এর আগে ২৭ ডিসেম্বর রাতভর বাংলাদেশ লাগোয়া মংডু এবং আশেপাশের এলাকায় চলল গোলাগুলি এবং বিমান হামলা। সেই বিকট আওয়াজ শোনা গেল বাংলাদেশের টেকনাফে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা থেকে রাত প্রায় ২টো পর্যন্ত চলে এই গোলাগুলি ও হামলা। অভিযোগ, বিগত দিনে সাধারণ মানুষের ওপর এয়ারস্ট্রাইক করে অনেককে মেরেছে মায়ানমারের সেনা। এদিকে বাংলাদেশ লাগোয়া মংডুতেও মায়ানমারের জুন্তা হামলা চালিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রাতভর সংঘর্ষের বিষয়ে বিজিবি জানায়, ঘটনাগুলো বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতরে ঘটেনি। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে মায়ানমার সীমান্তের থেকে আনুমানিক ১৩ কিলোমিটার ভিতরে বলিবাজার এলাকায়। এদিকে দাবি করা হয়, বিগত দিনে সংঘর্ষের আঁচ বাংলাদেশে এসেও পড়েছে। গত একমাসে নাকি অন্তত ৪ বার মায়ানমার থেকে ছোড়া গুলি এসে বিঁধেছে বাংলাদেশে। এদিকে কয়েকদিন আগেই সংঘর্ষে প্রায় ৩০ জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান মায়ানমারের মংডু এলাকায়।
এই সবের মাঝেই সম্প্রতি এক মিনি ট্রাকে করে সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেফতার করা হয়েছিল তিন যুবককে। তারা বস্তায় করে ম্যাগাজিন রাখার পকেট নিয়ে যাচ্ছিল। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে কক্সবাজারে আরাকান আর্মির ৬০ জোড়া পোশাক ধরা পড়েছিল বাংলাদেশে। সেই সময় মনে করা হচ্ছিল, অন্তরঘাতমূলক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করার জন্যেই এই পোশাক তৈরি করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানো হচ্ছিল। এদিকে সম্প্রতি জানা যায়, রাখাইন ও বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পার্বত্য জঙ্গলের গভীরে চলছে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের সামরিক প্রশিক্ষণ।

রিপোর্ট অনুযায়ী, মায়ানমার এবং চট্টগ্রামের সীমান্তে মায়ু পর্বতের জঙ্গলে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের আনাগোনা বেড়েছে। দাবি করা হচ্ছে, এই রোহিঙ্গা জঙ্গিরা নাকি মৎস্যজীবী ছদ্মবেশে নাফ নদীর পাশে থাকছে। মংডু শহরেও নাকি লুকিয়ে আছে তারা। আরাকান আর্মি অভিযান চালালে তারা বাংলাদেশে পালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের তৎপরতা ভারতের জন্যেও মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।