গত ৪ মে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে তৃণমূলের ধরাশায়ী অবস্থা প্রকাশ্যে আসে। তখনও বাকি ছিল ফলতা বিধানসভা ভোট পর্ব। ফলতায় পুনর্নিবাচন সদ্য হয়েছে ২১ মে। আর আজ ২৪ মে সেখানে গেরুয়া নিশান উড়ছে দাপটে। ফলতায় তৃণমূলের ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির আগেই ভোট ময়দান ছেড়েছেন। আর তারপর এদিন লক্ষের বেশি ভোটে সেখানে জয় পেয়েছে পদ্ম শিবির। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সেখানে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বামেরা, তৃতীয়তে কংগ্রেস এবং তৃণমূলের স্থান সেখানে চতুর্থ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড় বলে পরিচিত ডায়মন্ডহারবারের ফলতায় তৃণমূলের এই শোচনীয় হারের দিনে ফেসবুকে লাইভে এসে মুখ খুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন তাঁর লাইভ থেকে মমতা শুরুতেই বলেন, ‘৪ তারিখে কাউন্টিং হয়েছে (ভোটের ফলাফল) এই ২০ দিন মুখ বুজে সব কিছু সহ্য করেছি। আমি নয়, বাংলার মানুষ, তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা, যাঁরা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বলি হয়েছেন, ১২ জন মানুষ মারা গিয়েছেন, খুন হয়েছেন, আত্মহত্যায় বাদ্য হয়েছেন। সবাইকে জোর করে পদত্যাগ পত্র লিখিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইলেক্টেড বডিকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। .. প্রশাসনিক রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চলছে।’
মমতা বলেন, ‘আমিও প্রশাসন চালিয়েছি…। আমাদের সময়ও প্রায় ৩০ পার্সেন্ট পঞ্চায়েত অপজিশনের ছিল। এবারেএ জিতেছে তারা। কই তাদের অফিসে তো তালা দিইনি।’ এরই সঙ্গে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘একটা নির্বাচন হয়ে গেল, এটা কি সত্যিই নির্বাচন হয়েছে? নাকি নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে!’ তিনি অভিযোগ করেন, জেনে শুনে এসআইআর-এ ৬০ লাখের নাম বাদ গিয়েছে। এরই সঙ্গে তিনি বলেন,’কাউন্টিং রিগিং করা, ইভিএম মেশিন রিগিং করা, আমাদের কাছে স্পেসিফিক খবর রয়েছে, সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিশনের অফিস থেকে ডেটা হ্যাকিং করা…বিজেপির লোকেরা সিআরপিএফর ড্রেস পরে ঢুকে গিয়েছে কাউন্টিং সেন্টারে।’ ক্ষোভের সুর চড়া করে মমতা বলেন, ‘ইভিএমের মেশিনের রিপোর্ট চাই আমাদের। উপরওয়ালা দেখছে। আপনি বাংলাকে লুঠ করেছেন। আপনার দিল্লি চলে যাবে।’

বক্তব্যের একটি জায়গায় মমতা ভবানীপুর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ‘যিনি এখন গদিতে বসেছেন, তাঁর নাম করতে আমার ভালো লাগেনা। তাঁকে আমি অনেক দিন ধরে চিনি। তিনি নিজে বসে লুঠ করছিলেন.. ডেটা সেন্টারে। আমি নিজে দেখে এসেছি। আমাকে ঘার ধাক্কা দিতে দিতে বাইরে বের করে দেওয়া হয়েছে।’ মমতা বললেন, ‘… তারপর রেজাল্ট ডিক্লেয়ার করেছে, জেতার জায়গায় হারা, হারার জায়গায় জেতা, এই পাশাটা উল্টেছে প্রায় দেড়শো সিটে। সেটা না হলে, আমরা ২২০ থেকে ২৩০ সিট পেতাম।’