Mamata on Abhishek hospital admission: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাসপাতালে ভরতি হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্য-রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি বেসরকারি হাসপাতালের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাঁর ভাইপোকে ভরতি করার চেষ্টা করছিলেন। যদিও চিকিৎসকরা তাঁর শরীরে তেমন কোনো গুরুতর চোট খুঁজে পাননি বলে দাবি করা হয়েছে। রবিবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ একটি পোস্ট করে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন বঙ্গ বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার। নিজের দাবির সপক্ষে তিনি একটি অডিয়ো ক্লিপ (সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা( প্রকাশ করেছেন। বিজেপির দাবি, ওই অডিয়ো ক্লিপে মুখ্যমন্ত্রীকে বেলভিউ হাসপাতালের সিইওকে ধমকাতে এবং ক্ষোভপ্রকাশ করতে শোনা গিয়েছে। কারণ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিষেককে ভর্তি করতে রাজি ছিল না। যদিও এই ভাইরাল অডিয়ো ক্লিপ বা ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি ইনিউজ বাংলা।
বিজেপির তোপ: ‘রাজনৈতিক স্বার্থে হাসপাতালের অপব্যবহারের চেষ্টা’
বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার তাঁর পোস্টে সরাসরি তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন, ‘মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী যখন কোনও গুরুতর চোটই ছিল না, তখন জোর করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাসপাতালে ভরতি করার জন্য সিইওকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এটি রাজনৈতিক ন্যারেটিভ বা গল্প তৈরির জন্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে অপব্যবহার করার একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক চেষ্টা।’
বিজেপির বক্তব্য, হাসপাতাল সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য, কোনও দলের রাজনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য নয়। ডাক্তার, প্রশাসক বা স্বাস্থ্যক্ষেত্রের ওপর এই ধরণের রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা গণতন্ত্রের পরিপন্থী এবং এর ফলে চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর মানুষের ভরসা কমে যায়। বিজেপির আরও অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সংস্থা বা কোনও আইনি নোটিশ এড়াতেই এই ধরণের ‘মেডিকেল ড্রামা’ সাজানো হয়ে থাকে।

সোনারপুরে তাণ্ডব
এই বিতর্কের সূত্রপাত শনিবার, যখন দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর শহরে ভোট-পরবর্তী হিংসার শিকার হওয়া আক্রান্তদের দেখতে যান অভিষেক। সেখানে পৌঁছানো মাত্রই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একদল উত্তেজিত জনতা তৃণমূল সাংসদকে লক্ষ্য করে ইট, পাথর এবং ডিম ছুড়তে শুরু করে। তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়া হয় এবং ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
BJP সরকারের চাপে অভিষেককে ভরতি নেওয়া হয়নি, দাবি তৃণমূলের
পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে, ভিড়ের মধ্য থেকে কয়েকজন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর শারীরিক নিগ্রহের চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত সক্রিয় হন। শেষ পর্যন্ত একটি ক্রিকেট হেলমেট মাথায় দিয়ে এবং সহযোগীদের সাহায্যে কোনওরকমে ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে রক্ষা পান অভিষেক। পরবর্তীতে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু কলকাতার দুটি বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়, হাসপাতালে ভরতি হওয়ার মতো চোট লাগেনি অভিষেকের। তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়, বিজেপি সরকারের চাপে অভিষেককে ভরতি নেওয়া হয়নি।