মালদায় বিচারকদের আটক করার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই মামলায় তদন্তে নেমেছে এনআইএ। তবে এখনও পর্যন্ত সব গ্রেফতারি রাজ্য পুলিশই করেছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ‘মূলচক্রী’ এআইএমআইএম নেতা মোফাক্কেরুল ইসলামকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তার গ্রেফতারি নিয়ে ৩ এপ্রিলই মমতা বলেছিলেন, ‘আমাদের সিআইডি গ্রেফতার করেছে’। তবে আজ মমতার গলায় অন্য সুর। নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বললেন, মালদা কাণ্ডে নির্দোষদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ‘অশান্তির মধ্যে যাবেন না। এলাকা থেকে ৪০ জন ছেলেকে তুলে নেবে। যেটা মালদহে করেছে। যারা দোষ করেছে, তাদের গ্রেফতার করোনি। নির্দোষদের গ্রেফতার করছ কেন? ইডি, সিবিআই, এনআইএ, বিএসএফ, বর্ডার কার হাতে? মোটাভাইয়ের হাতে। তুমি তৃণমূলকে চোর বলো। বর্ডার থেকে টাকা কোথায় যায় মোটাভাই? তুমি তখন মুখে লিউকোপ্লাস্ট লাগিয়ে বসে থাকো।’
উল্লেখ্য, রিপোর্ট অনুযায়ী, ১ এপ্রিল বিকেল ৪টে থেকে কালিয়াচক ২ ব্লক অফিস ঘেরাও করে বহু মানুষ। সেই সময় বিডিও অফিসে ছিলেন ৭ জন বিচারক। গভীর রাত পর্যন্ত এই সব বিচারকদের বিডিও অফিসেই আটকে রাখে বিক্ষোভকারীরা। সেই ঘটনার নেপথ্যে অন্যতম ‘মাথা’ এই মোফাক্কেরুল ছিল বলে অভিযোগ। প্রায় ৮ ঘণ্টা ধরে কালিয়াচক ২ ব্লক অফিসে ঘেরাও ছিলেন ৭ বিচারক। প্রায় মধ্যরাতে সেই বিচারকদের উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ। এদিকে এই ঘটনার পরও বিচারকদের ওপর হামলার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। কালিয়াচক ২ ব্লক অফিস থেকে যখন বিচারকদের পুলিশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়, সেই কনভয়ে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ কনভয়ের গাড়ির কাচ ভেঙেছে সেই হামলায়। সেই ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার মূলচক্রী হিসাবে এআইএমআইএম নেতা মোফাক্কেরুল ইসলামের নাম উঠে আসে। নাম জড়ায় আইএসএফ প্রার্থীরও। এই দু’জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে বিডিও অফিসের বাইরে বিক্ষোভে তৃণমূলের সাবিনা ইয়াসমিনও ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে বিজেপির তরফ থেকে।
