ত্তরবঙ্গে ‘ম্যান মেড বন্যা’ হয়েছে বলে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গে রওনা দেওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়ে আপাতত ২৩ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। মৃতদের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে পরিবারের একজন সদস্যকে হোমগার্ডের চাকরি দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, শনিবার থেকেই উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতির উপরে নজর রাখছেন। ভুটান এবং অসম থেকে জল ঢুকেছে উত্তরবঙ্গে। ভুটানের ছাড়া জলে নাগরাকাটা ভেসে গিয়েছে। মুখে মুখে বাঁধ বলা হয়। কিন্তু কাজের কাজ হয় না বলে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেছেন, সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিরিক এবং নাগরকাটা। মিরিক-কালিম্পঙে ১৮ জন এবং নাগরাকাটায় পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।
মমতা দাবি করেছেন, জীবনের কখনও বিকল্প হতে পারে না টাকা। কিন্তু সামান্য সামাজিক কর্তব্য হিসেবে মৃতদের পরিবারপিছু পাঁচ লাখ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। যাতে কারও মুখাপেক্ষী না হয়ে থাকতে হয়, তাই পরিবারের একজন সদস্যকে স্পেশাল হোমগার্ডের চাকরি দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, একটি মহলের তরফে দাবি করা হয়েছে যে উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যে ২৮ ছুঁয়ে ফেলেছে।

যদিও বিষয়টি নিয়ে পালটা রাজ্য সরকারকে আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। বঙ্গ বিজেপির নেতা রাহুল সিনহা দাবি করেছেন, এটা ‘ম্যান মেড বন্যা’ নয়, এটা ‘শি (মমতা) মেড বন্যা’। একইসুরে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ দাবি করেছেন, মমতা সরকারের কারণেই উত্তরবঙ্গে এরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তারইমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে আগেই ধূপগুড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। ময়দানে নেমেছেন গৌতম দেবও। তিনি উত্তরবঙ্গে পৌঁছে প্রথমে যাবেন হাসিমারা। সেখান থেকে সোমবারই নাগরকাটার দিকে যাবেন। যত দূর যাওয়া সম্ভব, তত দূর যাওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন মমতা। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ।