রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে, প্রধানমন্ত্রী বসে – রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে ‘অপমানের’ ছবি দেখিয়ে পালটা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলের ধরনা মঞ্চ থেকে রাষ্ট্রপতিকে ‘অপমানের’ ছবি ব্যানারে ছাপিয়ে তুলে ধরা হয় জনসমক্ষে। সেইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যাঁরা বলছেন, বিশেষ করে মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীজি এটা আপনার জন্য। মাননীয়া রাষ্ট্রপতি একজন মহিলা, একজন আদিবাসী নেত্রী। তাঁকে সম্মান দেন? তাহলে বলুন কেন রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আছেন, আর আপনি বসে আছেন? সরাসরি আপনাদের দেখিয়ে দিলাম। আমরা কিন্তু সম্মান দিই। কিন্তু এরা সম্মান দেয় না। সম্মান কারা দেয়, আর কারা সম্মান দিতে পারে না, এই ছবিটাই তার প্রমাণ করে দেবে। আমরা সম্মানীয় সব চেয়ারকেই সম্মান করি।’
‘আমাদের নামে মিথ্যে অপবাদ দিচ্ছেন’, মোদীকে নিশানা মমতার
একই ছবি দেখিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ শানান তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় একই সময় ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী আক্রমণ শানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ওই পদকে পূর্ণ সম্মান দিই। দেশের সংবিধানকে আমরা মায়ের মতো ভক্তি করি। শুধু ভোট আসছে বলে বাংলাকে নিশানা করে আমাদের নামে মিথ্যে অপবাদ দিচ্ছেন! কেন?’
‘রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অসম্মানের জন্য মমতার প্রশাসনই দায়ী’
আর মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সাংসদ সেই সুর চড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর আক্রমণের পরে। রাষ্ট্রপতিকে মমতা সরকার অপমান করেছে বলে অভিযোগ তুলে আক্রমণ শানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এটি লজ্জাজনক এবং অভূতপূর্ব। গণতন্ত্র এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী মানুষজন সকলেই মর্মাহত। জনজাতি সম্প্রদায় থেকেই উঠে আসা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার প্রকাশিত বেদনা ও উদ্বেগ ভারতের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সঞ্চার করেছে। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সত্যিই সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অসম্মানের জন্য তাদের প্রশাসনই দায়ী। এটিও অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে সাঁওতাল সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এতো হালকাভাবে দেখছে। রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং এই পদের গরিমা সর্বদা রক্ষা করা উচিত। আশা করা যায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।’

রাষ্ট্রপতির অনুযোগ, মুখ্যমন্ত্রীকে বোন হিসেবে উল্লেখ
প্রধানমন্ত্রী সেই মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতির অনুযোগের পরে। শনিবার শিলিগুড়িতে নবম আন্তর্জাতিক আদিবাসী সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে এসে তিনি দাবি করেন, বিধাননগরে কনফারেন্স হলে ভালো হত। অংশগ্রহণ করতে পারতেন অনেক মানুষ। আজ যেখানে অনুষ্ঠান হচ্ছে, সেখানে আসা বেশ কঠিন মানুষের পক্ষে। হয়তো রাজ্য প্রশাসন আশা করেছিল যে কনফারেন্সে কেউ আসবেন না। রাষ্ট্রপতি শুধু আসবেন। আর তিনি চলে যাবেন। সেইসঙ্গে তিনি বলেন যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ছোট বোনের মতো। মমতা হয়তো রাগ করেছেন। তাই মুখ্যমন্ত্রী নিজে স্বাগত জানাতে আসেননি তাঁকে। পাঠানো হয়নি কোনও মন্ত্রীকেও। সেইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের আদিবাসী আদৌও সরকারি প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা পান কিনা, তা নিয়ে রাষ্ট্রপতি সংশয় প্রকাশ করেন।