ইংল্যান্ডের উত্তরে ম্যাঞ্চেস্টারের একটি সিনাগগের (ইহুদি উপাসনালয়) বাইরে ছুরিকাঘাতের ভয়াবহ ঘটনায় অভিযুক্তকে খতম করা হয়েছে। এই হামলার পিছনে সন্দেহভাজন একজন সিরীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ছিল বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তের নাম জিহাদ আল-শামি। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এই ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে অভিহিত করেছে। ইহুদি বছরের পবিত্রতম দিনে এই হামলা করা হয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার এক ভিডিয়ো বার্তায় বলেছেন, ক্রমবর্ধমান ইহুদিবিদ্বেষকে পরাজিত করতে হবে ব্রিটেনকে। ব্রিটেনের ইহুদিদের সুরক্ষায় সরকার সাধ্যমতো সবকিছু করবে।
ম্যাঞ্চেস্টার হামলায় নিহত সেই ইসলামপন্থী আততায়ীকে পুলিশ গুলি করে। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার। রিপোর্ট অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেটার ম্যাঞ্চেস্টারের ক্রাম্পসল শহরে একটি ইহুদি উপাসনালয়ের বাইরে এই হামলার ঘটনাটি ঘটে। ভিড়ের ওপর আচমকাই ছুরি নিয়ে চড়াও হয় জিহাদ আল-শামি। ইহুদি পরব উপলক্ষে সিনাগগের বাইরে ভিড় ছিল। এই আবহে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ২ জনের মৃত্যু হয় এবং ৪ জন জখম হন। খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। পরে পুলিশের গুলিতে খতম হয় আততায়ী।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের রিপোর্টে বলা হয়েছে, জিহাদ আল-শামি ছোট বয়সে ব্রিটেনে এসেছিল এবং ২০০৬ সালে ব্রিটিশ নাগরিক হয়েছিল। এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ৬০ বছর বয়সি এক মহিলাসহ তিনজন হেফাজতে রয়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে প্রস্তুতি ও প্ররোচনা দেওয়ার সন্দেহে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই ‘বর্বরোচিত হামলার’ নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ব্রিটেনের ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি ইজরায়েল শোক প্রকাশ করছে।

এদিকে ঘটনার সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার ডেনমার্কে ছিলেন। এই ঘটনার খবর পেয়েই তিনি লন্ডনে একটি জরুরি সভায় সভাপতিত্ব করতে ফিরে যান দেশে। পরে তিনি ঘোষণা করেন যে ব্রিটেনে সিনাগগগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ব্রিটিশ ইহুদিদের জন্য কাজ করা একটি অ্যাডভোকেসি গ্রুপ কমিউনিটি সিকিউরিটি ট্রাস্টের মতে, গাজা যুদ্ধের পরে ব্রিটেনে অ্যান্টিসেমিটিক ঘটনাগুলি রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে। এই বছরের প্রথমার্ধেই ১৫০০-রও বেশি এমন ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছিল।