রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৃহস্পতিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ার করলেন ভারতের ওপর শুল্ক চাপ ইস্যুতে। পুতিন বলেছেন, রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করার জন্য ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করবেন না, কারণ ভারত কখনও কারও অপমান মেনে নেবে না। কৃষ্ণ সাগরের রিসোর্ট শহর সোচিতে ভালদাই ডিসকাশন গ্রুপে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুতিন বলেন, ‘ভারতের মতো একটি দেশ কারও সামনে কখনই অপমানজনক পরিস্থিতি মেনে নেবে না। আমি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে চিনি। তিনি নিজেও এ ধরনের কোনও পদক্ষেপ নেবেন না।’
তাঁর ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা, ইউক্রেনে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারের অস্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলি উত্থাপন করেন পুতিন। পুতিন সাফ জানিয়েছেন, ভারত যদি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেয়, তাহলে তাঁদের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিনের অবস্থানকে দুর্বল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এর জন্য রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে ইউরোপ, ভারত ও চিনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট এর পালটা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করা হলে বিশ্ব অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়বে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের উপরে পৌঁছাবে।

পুতিন আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থ প্রদানের সমস্যাগুলি ব্রিকস ফোরাম বা অন্যান্য চ্যানেলের মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে। এদিকে ইউক্রেন সংঘাত প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, ন্যাটোর সব দেশ আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং তারা আর এই বিষয়টা গোপন করছে না। ইউরোপে একটি কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে যা ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর প্রতিটি গতিবিধিকে সমর্থন করে, তাদের গোয়েন্দা, অস্ত্র এবং প্রশিক্ষণ সরবরাহ করে। রুশ প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ অব্যাহত রাখার জন্য ইউরোপকে দায়ী করেন। এদিকে ব্রিকস ও আরব দেশগুলোর পাশাপাশি উত্তর কোরিয়া ও বেলারুশকে তাদের ‘শান্তি প্রচেষ্টার’ জন্য ধন্যবাদ জানান। উল্লেখ্য, উত্তর কোরিয়া তো রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করার জন্য তাদের সেনা পাঠাচ্ছে। এদিকে বেলারুশও সামরিক ভাবে রাশিয়ার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে।