ভারতে তেল নিয়ে যাওয়ার সময় ট্যাঙ্কার আটকাল ফ্রান্স। সেই জাহাজের ক্যাপ্টেনের বিচারও হবে বলে জানানো হয়েছে। ফ্রান্সের আটলান্টিক উপকূলের কাছে আটক ট্যাঙ্কারটি রাশিয়ার বলে দাবি করা হচ্ছে। এই আবহে তেল ট্যাঙ্কারের ক্যাপ্টেনের বিচার হবে ফেব্রুয়ারিতে। বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রসিকিউটর এ তথ্য জানিয়েছেন। বন্দর নগরী ব্রেস্টের প্রসিকিউটর স্টেফান কেলেনবার্গার জানিয়েছেন, মঙ্গলবার আটক দুই চিনা ক্রু সদস্য, ক্যাপ্টেন ও প্রধান সহকর্মীকে পুলিশ হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মুক্তি পেয়েছেন ‘চিফ মেট’। কেলেনবার্গার বলেন, সোমবার আটলান্টিক মেরিটাইম প্রিফেক্ট বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরে ক্রুরা ‘সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানালে’ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হয়েছিল। জাহাজটি কোন দেশের তাও পরিষ্কার করতে পারেনি ক্রুরা।
কেলেনবার্গার বলেন, জাহাজটি কোন দেশের তা নিয়ে সংশয় আছে। জাহাজের নথি এবং বাস্তবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফরাসি নৌবাহিনীর তদন্তে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, রাশিয়া থেকে ভারতে ‘বিপুল পরিমাণে তেল’ বহনকারী জাহাজটিতে কোনও দেশের পতাকা ছিল না। এই আবহে ফরাসি প্রসিকিউটর বলেন যে জাহাজের ক্যাপ্টেনকে ২৩ ফেব্রুয়ারি ব্রেস্টে বিচারের জন্য তলব করা হয়েছে। ক্যাপ্টেনকে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং দেড় লাখ ইউরো (১,৭৬,০০০ মার্কিন ডলার) জরিমানা করা হতে পারে।
এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ অভিযোগ করেছেন, ট্যাঙ্কারটি রাশিয়ার। যদিও এই পুরানো ট্যাঙ্কারটির মালিকানা এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। অভিযোগ, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এই ধরনের ট্যাঙ্কার ব্যবহার করা হচ্ছে। ম্যাক্রোঁ বলেন, গত সপ্তাহে ডেনমার্কের উপকূল দিয়ে ড্রোন ওড়ানোর ঘটনায় এই ট্যাঙ্কারটি জড়িত থাকতে পারে। ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘তদন্ত এখনও চলছে। ডেনমার্ক উপকূলে ড্রোন ওড়নোর ঘটনায় এই ট্যাঙ্কারের জড়িত থাকার সম্ভাবনা মোটেও উড়িয়ে দিতে পারি না। তবে আমি খুব স্পষ্টভাবে বলতে পারি না যে এই দুটি ঘটনার মধ্যে কোনও স্পষ্ট সংযোগ রয়েছে কি না।’

মেরিটাইম ট্র্যাফিক মনিটরিং ওয়েবসাইট অনুসারে, ‘পুষ্পা’ বা ‘বোরাকে’ নামের ট্যাঙ্কারটি ২০ সেপ্টেম্বর সেন্ট পিটার্সবার্গের কাছে প্রিমোরস্কের রাশিয়ান তেল টার্মিনাল থেকে ছেড়েছিল। এরপর তা ডেনমার্কের উপকূলে চলে যায় এবং রবিবার থেকে পশ্চিম ফরাসি বন্দর সেন্ট-নাজায়ারের উপকূলে অবস্থান করছে। এই ট্যাঙ্কারের নাম বেশ কয়েকবার পরিবর্তন করা হয়েছে। এটি পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বেনিনের পতাকা বহন করছে। এদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইইউ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে এই জাহাজটি। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, জাহাজটি সম্পর্কে তাঁর কাছে কোনও তথ্য নেই। তিনি আরও বলেন, অনেক দেশ রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘উস্কানিমূলক পদক্ষেপ’ নিচ্ছে।