রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে শিল্প, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে একাধিক বড় ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করতে গিয়ে তিনি জানান, রাজ্যে নতুন স্টার্টআপ নীতি চালু করা হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, পাটশিল্পের পুনরুজ্জীবন, কার্পেট শিল্পের উন্নয়ন এবং ব্যাটারিচালিত গাড়ি উৎপাদনের মতো একাধিক ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, নতুন স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে দুটি পৃথক তহবিল গঠন করা হবে। একটি তহবিলে ৪০ কোটি টাকা এবং অন্যটিতে ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে স্টার্টআপ উন্নয়নের জন্য ১০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল তৈরি করা হবে। সরকারের আশা, এর ফলে নতুন উদ্যোগপতি, প্রযুক্তিনির্ভর সংস্থা এবং উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক প্রকল্পগুলি আর্থিক সহায়তা পাবে এবং রাজ্যে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
উত্তরবঙ্গের শিল্পোন্নয়নের জন্যও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিকাশে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় সরকারের সেমিকন্ডাক্টর মিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উত্তরবঙ্গকে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাজেটে ঐতিহ্যবাহী পাটশিল্পের পুনরুজ্জীবনের জন্যও বিশেষ উদ্যোগের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা এই শিল্পকে নতুন বাজার ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিতে সরকার পদক্ষেপ করবে বলে জানিয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর ও কুশমন্ডিতে ঐতিহ্যবাহী কার্পেট শিল্পকে চাঙ্গা করার জন্য বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব শিল্পের উপর জোর দিয়ে উত্তরবঙ্গ এবং পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে ব্যাটারিচালিত গাড়ির কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এর ফলে শিল্পায়নের পাশাপাশি সবুজ প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়াও কেন্দ্রীয় প্রকল্প পিএম গতি শক্তি ও সাগরমালা ২-এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে দুর্গাপুর এবং নদিয়ায় আধুনিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্লাস্টার গড়ে তোলার ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের মতে, এই ক্লাস্টারগুলি শিল্প বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সব মিলিয়ে, নতুন স্টার্টআপ নীতি, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্পের পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে শিল্পোন্নয়নের নতুন মানচিত্রে তুলে ধরার রূপরেখা তুলে ধরেছে রাজ্য বাজেট।