ভারতের জ্বালানি শোনধকারী সংস্থা নায়ারার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ব্রিটেন। এই আবহে মুখ খুলল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ‘ব্রিটেন যে সম্প্রতি যে নিষেধাজ্ঞাগুলি জারি করেছে, তা আমাদের নজরে এসেছে… আমরা কোনও একতরফা নিষেধাজ্ঞার পক্ষে নই। ভারত সরকার তার নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণে বদ্ধপরিক। আর এর জন্য জ্বালানি নিরাপত্তার বিধানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব বলে মনে করে সরকার… আমরা জোর দিয়ে বলব, এই ক্ষেত্রে কোনও ডবল স্ট্যান্ডার্ড থাকা উচিত নয়, বিশেষ করে প্রশ্ন যখন জ্বালানি বাণিজ্য নিয়ে।’
ক্রেমলিনের ওপর চাপ বাড়াতে ইউরোপকেও রাশিয়ান জ্বালানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার বার্তা দিয়েছিল আমেরিকা। এই আবহে সম্প্রতি রাশিয়ার বৃহত্তম তেল সংস্থা, লুকোয়েল এবং রোসনেফ্টের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ব্রিটেন। পাশাপাশি আরও ৪৪টি ছায়া ফ্লিট ট্যাংকারকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে ব্রিটেন। এই আবহে রাশিয়ার তেল বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ভারত ও চিনসহ তৃতীয় দেশের কোম্পানিগুলোর ওপরও চাপ বাড়ানোর বার্তা দিয়েছে ব্রিটেন। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নও নায়ারা এনার্জিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করেছিল।
উল্লেখ্য, নায়ারা এনার্জি লিমিটেড নামে এই তেল শোধনাগারে রাশিয়ার তেল কোম্পানি রসনেফটের ৪৯.১৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। প্রসঙ্গত, ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের উপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক হল রাশিয়ার থেকে তেল কেনার ‘শাস্তি’। আমেরিকার অভিযোগ ছিল, রাশিয়া থেকে তেল কিনে ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিনের পকেটে টাকা ভরছে ভারত। হোয়াইট হাউজের তরফে জানানো হয়েছে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাতের অবসান ঘটাতেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। অতিরিক্ত শুল্কগুলি ২৭ অগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছিল। এই আবহে আমেরিকা ইউরোপীয় দেশগুলির উদ্দেশে বার্তা দিচ্ছিল যাতে তারাও রাশিয়ান তেল কেনার বিষয়ে ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। প্রসঙ্গত, মুখে ইউরোপীয় দেশগুলি যাই বলুক না কেন, ভারত থেকে শোধিত তেল কেনার ক্ষেত্রে তারাই সবথেকে বেশি এগিয়ে আছে।

এদিকে মার্কিন শুল্ক সত্ত্বেও রাশিয়া থেকেই এখনও বেশিরভাগ অপরিশোধিত তেল কিনে চলেছে ভারত। অবশ্য, হিসেবে দেখা যাচ্ছে, ধীরে ধীরে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমাচ্ছে ভারত। এই বছরের প্রথম আট মাসে প্রায় ১০% হ্রাস পেয়েছে রাশিয়ার থেকে তেল কেনার পরিমাণ। কমোডিটি ট্র্যাকার কোম্পানি কেপলারের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ভারত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিদিন মোট ৪.৫ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। এর মধ্যে প্রায় ১.৬ মিলিয়ন ব্যারেল (৩৪%) রাশিয়া থেকে এসেছিল।
এই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনকারী সংস্থাগুলি জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাশিয়ান তেল ক্রয় ৪৫ শতাংশেরও বেশি কমিয়েছে। কেপলারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পতন কোনও মার্কিন শুল্ক বা ইউরোপীয় সমালোচনার ফলাফল নয়, বরং সম্পূর্ণরূপে বাজারের পরিস্থিতি দ্বারা চালিত। এই আবহে ইন্ডিয়ান অয়েলের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা শুধুমাত্র অর্থনৈতিক দিকের কথা মাথায় রেখে তেল কিনি। আমরা ইচ্ছে করে রাশিয়ার তেল কেনা কমাচ্ছি না বা বাড়াচ্ছি না। তেলের দাম, শোধনাগারের প্রয়োজনের উপর নির্ভর করে তেল কিনি আমরা।’ উল্লেখ্য, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের আবহে ভারত সস্তায় রাশিয়া থেকে তেল কেনার দিকে ঝুঁকেছিল। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ৩৯ মাসে রাশিয়া থেকে তেল কিনে ১২.৬ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করেছিল ভারত।