আজ পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করল বিজেপি। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ব্রিগেড ময়দানে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অনুষ্ঠান মঞ্চে উঠেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে ফুল দেন প্রধানমন্ত্রী। আর তারপর মাখনলাল সরকারকে সম্মানিত করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে জড়িয়ে ধরেন মোদী। পায়ে ধরে প্রণাম করেন। কিন্তু কে এই মাখল লাল সরকার?
মাখনলাল সরকার হলেন শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তিনি ১৯৫২ সালে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর ঐতিহাসিক কাশ্মীর যাত্রার সফরসঙ্গী ছিলেন। শ্যামাপ্রসাদের প্রয়াণের পরে একটি গান গাওয়ার জন্যে দিল্লিতে কংগ্রেস সরকার গ্রেফতার করেছিল মাখনলাল সরকারকে। তাঁকে ক্ষমা চাইতে বলা হলেও তিনি তা করেননি। পরে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে সেই গানটি গাইতে বলেন। পরে মাখনলাল সরকার সেই গানটি শোনান বিচারককে। তা শুনে মাখনবাবুকে মুক্তি দেন বিচারক। সঙ্গে ফার্স্ট ক্লাস কামরায় মাখনলাল সরকারকে বাড়ি পাঠাতে নির্দেশ দেন পুলিশকে। সঙ্গে ভ্রমণের জন্য ১০০ টাকা দিতেও বলা হয়। যে সময় বঙ্গে বিজেপি বা জনসংঘের প্রায় অস্তিত্ব ছিল না, সেই তখন থেকেই সংগঠনের হয়ে কাজ করে গিয়েছেন মাখলনান সরকার।
বর্তমানে এই মাখলনান সরকারের বয়স ৯৮ বছর। এহেন আদি গেরুয়া নেতাকে আজ মোদী সম্মানিত করলেন শুভেন্দুর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে। শুভেন্দু অধিকারীও মাখনলাল সরকারের সঙ্গে গিয়ে হাত মেলান। শুভেন্দুকে আশীর্বাদ করতে দেখা যায় বর্ষীয়ান এই বিজেপি নেতাকে। উল্লেখ্য, বাংলা চিরকালই বিজেপির জন্য এক বিশেষ আবেগ ছিল। যে জনসংঘ থেকে বিজেপির জন্ম, সেই জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। লালকৃষ্ণ আডবাণী সেই শ্যামাপ্রসাদের সহায়ক ছিলেন। সেই শ্যামাপ্রসাদের জন্মভূমিতে এই প্রথম বিজেপির সরকার গঠিত হল। আর সেই মঞ্চে সম্মানিত করা হল বিজেপির অন্যতম আদি নেতাকে।
