রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ শুভেন্দু অধিকারীর

Spread the love

পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকার গঠিত হল। রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যপাল আরএন রবি শপথবাক্য পাঠ করান শুভেন্দুকে। বাংলায় শপথবাক্য পাঠ করেন তিনি। তবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আজ হয়ত বিধানসভায় পা রাখবেন না শুভেন্দু। আগামী বুধবার বিধানসভায় যাবেন শুভেন্দু। ওই দিন বিধায়করা শপথ গ্রহণ করবেন। আজ জোড়াসাঁকো, কালীঘাট মন্দির, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, আজ রবীন্দ্রজয়ন্তী। এবং তৃণমূলের ‘বাংলা বিরোধী’ তকমা গা থেকে ঝেড়ে ফেলতে মরিয়া বিজেপি এই দিনই নতুন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। এই আবহে শপথের মঞ্চে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া ছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে মালা দেওয়া হয়। মঞ্চে উঠে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে ফুল দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

উল্লেখ্য, ৮ মে বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠকেই শুভেন্দু অধিকারীকে নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল প্রত্যাশিত ভাবে। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এই নিয়ে লাগাতার দ্বিতীয়বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্মুখ সমরে হারান তিনি। এই আবহে শুভেন্দু ছাড়া অন্য কাউকে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া কঠিন কাজ ছিল। এই আবহে ৫৫ বছর পরে জেলা থেকে মুখ্যমন্ত্রী পেল বাংলা। পূর্ব মেদিনীপুর থেকে বাংলা পেল দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আজ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এরই সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফড়ণবীস, অসমের হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, অন্ধ্রের চন্দ্রবাবু নাইডু, বিহারের সম্রাট চৌধুরী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, মেঘালয়ের কনরাড সাংমা সহ বহু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। এরই সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত হতে চলা ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী, মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের মতো নেতারাও আসেন অনুষ্ঠানে। ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। সেখানে ছিলেন শুভেন্দুর বাবা শিশির অধিকারী, দাদা, বৌদি।

একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তৃণমূলের বড় মুখ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২০ সালে তিনি ফুল বদল করে বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২১ সালের ভোটে ৭৭টি আসনে জিতেছিল বিজেপি। সেই সময় বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর ২০২৬ সালে বিজেপি জিতেছে ২০৭টি আসনে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনে তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য, তৃণমূলের বিরুদ্ধে তাঁর আক্রমণাত্মক অবস্থান, তৃণমূলের অভ্যন্তরের বিষয়ে জ্ঞান এবং হিন্দুত্ব ইস্যুতে সোচ্চার হওয়ার কারণে তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে বাংলায় জন্মগ্রহণ করেছেন এবং মাছ-ভাত খান, তিনিই হবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। এরই সঙ্গে অনুপ্রবেশকারী এবং হিন্দুত্ব ইস্যুতে আগ্রাসী শুভেন্দু। এদিকে সরকারে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর। দীর্ঘদিন মমতার মন্ত্রিসভায় একাধিক দফতরের দায়িত্ব সামলেছিলেন তিনি। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী হয়েই তৃণমূলের সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তে কমিটি গঠন করবেন হলে ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘদিন তৃণমূলে থাকার দরুণ তিনি সেই দলের গঠনতন্ত্রের বিষয়ে অবগত। তাই রাজ্যের শীর্ষ পদে বসে তিনি রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক ভাবে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, সেদিকে নজর থাকবে সবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *