২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে বিপুল মার্জিনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। আগামী শনিবার অর্থাৎ ৯ মে ব্রিগেডের মাঠে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই শুভেন্দুকে শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়েছেন অনেকেই। এবার শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছাবার্তা জানাতে দেখা গেল অভিনেতা সোহেল দত্তকে।
সোহেলের রাজনীতির যাত্রা
২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন সোহেল। প্রথমে সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল কিন্তু মাত্র ২ বছর পরেই তিনি দল ছেড়ে বেরিয়ে যান। যোগদান করেন তৃণমূলে। ২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে ভোটপ্রচার করতেও দেখা দিয়েছিল সোহেলকে। কিন্তু বিজেপি জয়যুক্ত হওয়ার পর, বিশেষত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করার পরেই দাদাকে শুভেচ্ছাবার্তা দিলেন সোহেল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে সোহেল লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের নব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন। আশা রাখছি তিনি বাংলা এবং বাংলার সিনে শিল্পের উন্নতি সাধনের জন্য সবকিছু করবেন। প্রথম পোস্টে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পুরনো একটি ছবি শেয়ার করেছিলেন সোহেল কিন্তু কমেন্ট বক্সে কটাক্ষের বন্যা বয়ে যেতেই সেই ছবি সরিয়ে দেন অভিনেতা।’
কেন কটাক্ষ?
২০২১ সালে সোহেল যখন বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন, তখন শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ভীষণ ভালো সম্পর্ক ছিল তাঁর। সেই সময় তিনি দাবি করেছিলেন, নীতিগত আদর্শের মতভেদ হবার জন্যই তিনি বিজেপি ছেড়ে দিলেন। এমনকি শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কিছু বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন তিনি সেই সময়।

সোহেল বলেছিলেন, ‘উনি আমার বাবা মাকে বলেছিলেন আপনার ছেলের দায়িত্ব আমার। যদিও বাবা-মা তখন বারণ করেছিলেন। আমি বিজেপিতে যোগদান করেছিলাম রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কারণে। পরবর্তীকালে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু পরে বুঝতে পারি আমি ভুল করেছি। ওই দলের নীতিগত আদর্শের সঙ্গে আমি মানিয়ে নিতে পারিনি কোনওদিন। ওঁরা শিল্পীদের সম্মান করতে জানেন না।’
এরপর তৃণমূলের প্রায় প্রত্যেকটি অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে সোহেলকে। কিন্তু ২০২৬ বিধানসভা ভোটে তৃণমূল হেরে যেতেই আবার পাল্টি খেলেন অভিনেতা। ‘দাদা’কে শুভেচ্ছা বার্তায় ভরালেন সোহেল, যদিও এর জন্য কম কটাক্ষের শিকার হতে হচ্ছে না তাঁকে।