প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেভাবে আমাদের দলের সহকর্মীরা – যাঁদের মধ্যে একজন সাংসদ এবং বিধায়কও রয়েছেন—পশ্চিমবঙ্গে বন্যা ও ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সেবা করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি তৃণমূল কংগ্রেসের অসংবেদনশীলতা এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার করুণ রূপের স্পষ্ট প্রতিফলন।’ সেখানেই থামেননি প্রধানমন্ত্রী। মমতা সরকার এবং মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেসকে নৈতিকতার পাঠ পড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার একান্ত কামনা পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেস এই কঠিন পরিস্থিতিতে হিংসায় লিপ্ত না হয়ে মানুষের সাহায্যে আরও মনোযোগী হোক। আমি বিজেপি নেতাকর্মীদের আহ্বান জানাই, তাঁরা যেন জনগণের পাশে থেকে উদ্ধারকাজে সহায়তা করে যান।’
মোদীকে পালটা নিশানা করে মমতা দাবি করেন, ‘কোনও উপযুক্ত তদন্তের অপেক্ষা না করেই, যখন উত্তরবঙ্গের মানুষ ভয়াবহ বন্যা ও ধসের সঙ্গে লড়াই করছেন, তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী একটি প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে রাজনীতি করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা খুবই দুর্ভাগ্যের এবং গভীর উদ্বেগের বিষয়।’ তিনি দাবি করেন, স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনকে না জানিয়েই ঘটনাস্থলে যান খগেনরা।
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ‘কোনও প্রমাণ, তদন্ত এবং কোনও প্রশাসনিক রিপোর্ট ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল কংগ্রেস এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে দোষারোপ করেছেন। এটা শুধু নিম্নমানের রাজনীতি নয়; যে সাংবিধানিক নৈতিকতা তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন, তারও লঙ্ঘন হল। যে কোনও গণতন্ত্রে আইন নিজস্ব পথে চেলে এবং কোনও ঘটনার দায় নির্ধারিত হয় যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে – কোনও রাজনৈতিক বেদির উচ্চতা থেকে করা একটি টুইটের মাধ্যমে নয়।’

দীর্ঘ পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা সবাই দ্ব্যর্থহীন ভাষায় হিংসার নিন্দা করছি। কিন্তু এটা রাজনৈতিক বুক চাপড়ানোর সময় নয়। এটা সহায়তা ও নিরাময়ের সময়। এটাও স্পষ্ট যে ভোটের আগে মেরুকরণের আশায় বিজেপি সেই ক্লান্তিকর উত্তরবঙ্গ বনাম দক্ষিণবঙ্গের কাহিনিতে ফিরতে চায়।’ সেইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বলি: নির্বাচিত রাজ্য সরকারের কথা শুনুন, শুধু নিজের দলের লোকের কথা শুনবেন না। আপনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী, কেবল বিজেপির নন। আপনার দায়িত্ব দেশ নির্মাণ, কাহিনি নির্মাণ নয়।’