Nakhoda Masjid Imam। ‘মুসলিমদের কাছে আবেদন গরু খাবেন না, তাতে হিন্দু ভাইদেরই লোকসান হবে’

Spread the love

রাজ্যে নতুন সরকার আসতেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকর করা হয়েছে কঠোর নিয়ম এবং আইন। এই আবহে রাস্তায় নমাজ আদায় থেকে শুরু করে আজানের মাইকিং এবং গোহত্যা নিয়েও বিভিন্ন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। এই বিষয়গুলি নিয়ে এবার মুখ খুললেন নাখোদা মসজিদের ইমাম মওলানা মহম্মদ শফিক কাসমি। তাঁর কথায়, সবার জন্য আইন সমান হওয়া উচিত। তিনি পূর্বতন সরকারদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বলেন, মুসলিমদের এর আগে কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল শুধু ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করেছে।

মওলানা মহম্মদ শফিক কাসমি বলেন, ‘যে সরকার এখন এসেছে, কুরবানি নিয়ে যে আইন কার্যকর করা হয়েছে, সেটা এই সরকার বানায়নি। ১৯৫০ সালে এই আইন তৈরি হয়েছিল। এর আগে এখানে যে সরকার ছিল, কংগ্রেসের, বামেদের, তৃণমূলের, তারা শুধু মুসলিমদের ললিপপ দিয়েছে, শুধু ভোট নিয়েছে আর তাদের গরু খাওয়ার লাইসেন্স দিয়ে দিয়েছে। এখন বিজেপি এসেছে, তারা সেই আইন কার্যকর করছে। বড় যে জীব আছে, তাদের জবাইয়ের আগে সার্টিফিকেট জোগাড় করতে হবে, আর জবাই কসাইখানায় করতে হবে। এই নিয়ম ছিল। সেগুলিই কার্যকর করা হচ্ছে। তবে এই সব জানোয়ারদের সার্টিফিকেট দেওয়ার দায়িত্ব তো সরকারের। জায়গায় জায়গায় কসাইখানা বানিয়ে দেওয়া উচিত ছিল।’

এরপর তিনি আরও বলেন, ‘আমি রাজ্যের সব মুসলিমদের কাছে আবেদন করব, আপনারা গরু খাবেন না, গরু জবাই করবেন না। এতে লোকসান হিন্দু ভাইদের। কারণ গরু তো বিক্রি করে হিন্দুরা। ঘোষ-যাদবরা ২৫ হাজারের গরু ইদের সময় লাখ টাকায় বিক্রি করে। আমি তো মুসলিমদের বলব, গরু খাবেন না। বরং ছাগল কিনুন। মুসলিমরা ছাগল পালন করে। তাহলে ছাগল কিনলে মুসলিমদের লাভ হবে।’

মাইকে আজানের আওয়াজ কমানোর নিয়ম নিয়ে নাখোদা মসজিদের ইমাম মওলানা মহম্মদ শফিক কাসমি বলেন, ‘এই নিয়মটি বিজেপি সরকার তৈরি করেনি, বরং দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড তৈরি করেছে। আইন অনুযায়ী, দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড বা সুপ্রিম কোর্ট, কোনও পক্ষ থেকেই মাইক সরিয়ে ফেলার কোনও আদেশ ছিল না, বরং শিল্পাঞ্চলে ৭৫-৮০ ডিবি, বাণিজ্যিক এলাকায় ৭০-৭৫ ডিবি এবং আবাসিক এলাকায় ৬৫-৭০ ডিবির মধ্যে মাইক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর নীরব অঞ্চলের জন্য শব্দসীমার আদেশটি হল ৪০-৪৫ ডিবি। কিন্তু পুলিশ মাইক সরিয়ে ফেলতে বলছে, যা অন্যায়। তাদের আইন অনুযায়ী কাজ করা উচিত, এবং আমরাও তাই করব।’ এদিকে রাস্তায় নমাজ পড়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নাখোদার ইমাম বলেন, ‘আমি সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করি। তবে সেই ক্ষেত্রে রাস্তায় যে মণ্ডপ হয়, শ্রাবণ মাসে যে কাওঁয়ার যাত্রা হয়, সেগুলি তো রাস্তাতেই হয়। আমি এটা বলছি না, যে সেগুলি বন্ধ করা হোক।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *