চার বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রূপোলি পর্দায় ফিরল সোনাদা-আবীর-ঝিনুকের আইকনিক ত্রয়ী। এবার তাঁদের অ্যাডভেঞ্চার সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে, প্রতাপাদিত্যের গুপ্তধনের সন্ধানে। ‘সোনাদা’ ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে বাঙালির আবেগ সবসময়ই তুঙ্গে থাকে, আর সেই আবেগকে ভর করেই বক্স অফিসে লক্ষ্মীলাভের খাতা খুলল ‘সপ্তডিঙার গুপ্তধন’।
বক্স অফিসে সোনাদার ম্যাজিক:
Sacnilk-এর অফিশিয়াল তথ্য অনুসারে, ছবিটির বক্স অফিস কালেকশন বেশ আশাব্যাঞ্জক। প্রথম দিন (শুক্রবার) ছবির আয় ছিল ৩৯ লক্ষ টাকা। দ্বিতীয় দিন (শনিবার) তা এক লাফে কালেকশন বেড়ে দাঁড়ায় ৭৪ লক্ষ টাকায়। অর্থাৎ দু-দিনের মোট নেট কালেকশন: ১ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা।
ট্রেড অ্যানালিস্টদের মতে, উইকএন্ডের দ্বিতীয় দিনে ব্যবসার এই গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হওয়া প্রমাণ করে যে ছবিটির প্রতি দর্শকের টান কমেনি। রবিবার ছুটির দিনে কালেকশন শনিবারে চেয়েও অনেকটাই বাড়বে বলে আশা করছেন হল মালিক ও বক্স অফিস বিশেষজ্ঞরা।
কেমন হলো ‘সপ্তডিঙার গুপ্তধন’?
ভিস্যুয়াল ও স্কেলের মাস্টারস্ট্রোক: বাংলা সিনেমায় প্রায়শই বাজেটের খামতির যে অভিযোগ ওঠে, এই ছবিতে তা এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন পরিচালক ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়। যেভাবে মণ্ডপ বা সেটের কারুকার্য করা হয়েছে এবং মূর্তিকে অস্ত্র করে ধাঁধার সমাধান করা হয়েছে, তার জন্য শিল্প নির্দেশক ও চিত্রগ্রাহক আলাদা করে প্রশংসা পাবেন।
ছবিতে সাবপ্লট বা অবান্তর গল্প না থাকায় আখ্যান সোজা গতিতে এগিয়ে যায়। তবে মনসামঙ্গল, চাঁদ সদাগর বা লোককথার সঙ্গে যাঁদের একদমই যোগ নেই, তাঁদের পক্ষে ছবির সব ধাঁধার সঙ্গে তাল মেলানো কিছুটা কঠিন হতে পারে। যে গভীর রিসার্চ ছবিটির জন্য করা হয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

সোনাদা হিসেবে আবীর চট্টোপাধ্যায় এককথায় অসাধারণ। চরিত্রের আত্মাটিকে তিনি এতটাই চিনে গেছেন যে এখন আর আলাদা করে তাঁকে অভিনয় করতে হয় না। আবিরলাল হিসেবে অর্জুন চক্রবর্তীও ভালো। পুরনো চরিত্র ‘দশানন’ হিসেবে রজতাভ দত্ত এবং একটি বিশেষ চরিত্রে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের অভিনয় বেশ জুতসই, যদিও চরিত্রগুলি আরও একটু গভীর হতে পারত।
আবির-ঝিনুক-সোনাদা অর্থাৎ অর্জুন-ইশা-আবিরের পাশাপাশি এই ছবিতে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় ও রজতাভ দত্তের অভিনয় প্রশংসার দাবি রাখে।