Narendra Modi on Dimagi Naxals: স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে নতুন ধরনের হুমকি নিয়ে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি ‘দিমাগি নকশাল’ বা ‘মানসিক নকশাল’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র নকশালদের প্রভাব এখন অনেকটাই শেষ হয়েছে। কিন্তু অন্য ধরনের নকশাল এখনও সক্রিয় রয়েছে বলে তাঁর দাবি। এই গোষ্ঠীকে তিনি ‘দিমাগি নকশাল’ বলে উল্লেখ করেন। অর্থাৎ, যারা মানসিক ভাবে নকশাল। মোদীর বক্তব্য, এই ধরনের মানুষকে চিহ্নিত করতে হবে। তারপর সমাজ থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন করতে হবে। দেশবাসীকে সতর্ক থাকার বার্তাও দেন তিনি।
এদিনের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র নকশালদের অধ্যায় শেষের দিকে। তবে তাঁদের মতাদর্শ বা চিন্তার প্রভাব এখনও কিছু জায়গায় রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাই এই বিষয়ে কোনও রকম আত্মতুষ্টি দেখানো উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে। এদিকে মোদী আরও বলেন, দেশের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকির বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। শুধু অস্ত্র হাতে নেওয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী নয়। কোনও মতাদর্শ বা চিন্তাধারা থেকেও সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জাতীয় বিষয় তুলে ধরেন। তার মধ্যেই নকশাল সমস্যার প্রসঙ্গও আসে। তিনি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। মোদীর এই সতর্কবার্তার মূল বক্তব্য হল, দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে এমন যে কোনও শক্তিকে সময় থাকতে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। পরে যাতে সেই শক্তি বড় আকার না নেয়, তার জন্য আগেই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে মোদীর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বামপন্থী সশস্ত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আসছে। তাঁর দাবি, সশস্ত্র নকশালদের প্রভাব অনেকটাই কমেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু অস্ত্রের লড়াই শেষ হলেই সমস্যা শেষ হয় না। মতাদর্শগত প্রভাবের দিকেও নজর রাখা জরুরি। সেই কারণেই ‘দিমাগি নকশাল’দের চিহ্নিত ও বিচ্ছিন্ন বা একঘরে করার কথা বলেছেন তিনি।

এদিনের ভাষণে তাঁর বার্তা ছিল স্পষ্ট। দেশের নিরাপত্তা এবং ঐক্যের প্রশ্নে কোনও ধরনের হুমকিকে হালকাভাবে দেখা যাবে না। নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রেও দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে। এখন প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কী প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, সেটাই দেখার।