ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চলতি বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যেতে পারেন। জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতেই তাঁর এই সফরের সম্ভাবনা প্রবল বলে জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত নবম ইউএস-ইন্ডিয়া স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ ফোরাম (USISPF) লিডারশিপ সামিটের ফাঁকে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আবারও স্বাগত জানাতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র।
সার্জিও গোর জানান, মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি ভারত সফরের সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আবার যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসতে দেখতে চাই। আমার জানা মতে, তিনি ডিসেম্বরে জি২০ সম্মেলনে যোগ দিতে আসবেন।’ আগামী ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর ফ্লোরিডার মায়ামিতে জি২০ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ২০০৯ সালের পর এই প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্র জি২০ নেতাদের সম্মেলনের আয়োজন করছে। ফলে সম্মেলন ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
এদিকে ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েও আশাবাদী সুর শোনা যায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে। তিনি বলেন, ভারত-আমেরিকার অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে হাজার হাজার পণ্যের শুল্ক ও বাণিজ্যিক বিধি নিয়ে আলোচনা হওয়ায় বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। তা সত্ত্বেও আলোচনার অগ্রগতি দুই দেশের সম্পর্কের ইতিবাচক দিক তুলে ধরছে এবং খুব শিগগিরই চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গোর আরও জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত আগ্রহী। তাঁর দাবি, দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ দ্রুত বাড়ছে এবং তা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক। এদিকে ইউএসআইএসপিএফ-এর অনারারি সিনিয়র অ্যাডভাইজার আল ম্যাসন বলেন, এক সময় ট্রাম্প-মোদী সম্পর্ক নানা কারণে কঠিন পর্যায়ে পৌঁছেছিল। বাণিজ্যিক মতপার্থক্য, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অগ্রাধিকার এবং প্রশাসনিক জটিলতা সেই সম্পর্কে প্রভাব ফেলেছিল। তবে সার্জিও গোরের উদ্যোগেই দুই নেতার মধ্যে যোগাযোগ পুনরায় স্থাপিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ম্যাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, গোর প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের তিনটি বার্তা পৌঁছে দেন- ভারতের উত্থানকে সম্মান করেন ট্রাম্প, মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে চান। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভারত সফরের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। যদিও তিনি জানান, আগামী বছরের আগে সেই সফরের সম্ভাবনা নেই। পাশাপাশি তিনি বলেন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার কৌশলগত জোট ‘কোয়াড’-এর সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই আগামী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।