চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হতে চলা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাঙ্কের বার্ষিক বৈঠকে যোগ দেবেন না ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। উল্লেখ্য, রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে যখন টানাপোড়েন জারি আছে। এদিকে গত মে মাসে অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন পাকিস্তানকে মোটা অঙ্কের ঋণ দিয়েছিল আইএমএফ। এই আবহে ভারত সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বৈঠকে যোগ দিতে নির্মলা আমেরিকায় যাবেন না। এহেন পরিস্থিতিতে মার্কিন মুলুকে হতে চলা এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন অর্থ মন্ত্রকের অর্থনৈতিক বিষয়ক সচিব অনুরাধা ঠাকুর। তাঁর সঙ্গে থাকবেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা এবং মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরন।
ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ‘জরিমানা’ হিসেবে। এই আবহে সব মিলিয়ে ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে আমেরিকা। এই প্রেক্ষাপটে সীতারামনের এই বৈঠকে অনুপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এদিকে ভারতের যে প্রতিনিধি দল আমেরিকায় যাচ্ছে, তারা ব্রিকস, জি-২০ এবং জি-২৪ গ্রুপের বৈঠকেও অংশ নেবে। এছাড়া আইএমএফের বোর্ড অফ গভর্নরের বৈঠকেও অংশ নেবে ভারত।
এদিকে পহেলগাঁও হামলার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানকে ১০০ কোটি ডলারের ঋণ দিয়েছিল আইএমএফ। ভারত সেই ঋণের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছিল। তবে আইএমএফের যুক্তি ছিল, পাকিস্তান সর্বশেষ ঋণের কিস্তি পাওয়ার জন্য ‘প্রয়োজনীয় সমস্ত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে’। উল্লেখ্য, ঋণে জর্জরিত পাকিস্তানকে সহায়তা প্যাকেজের অংশ হিসেবে গত মে মাসে ১ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছিল আইএমএফের তরফ থেকে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অনুমোদিত এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি প্রোগ্রামের অধীনে এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান প্রায় ২.১ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে। এই আবহে পাকিস্তানকে ঋণ দেওয়ার পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন আইএমএফ যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক জুলি কোজ্যাক।

উল্লেখ্য, ভারতের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যে ঋণ দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে ১১টি নতুন শর্ত দিয়েছিল আইএমএফ। তবে পাকিস্তানকে এই ‘বেলআউট প্যাকেজ’ দেওয়া নিয়ে প্রতিবাদ করেছিল ভারত। দিল্লির দাবি, এই অর্থ সীমান্ত সন্ত্রাসে অর্থায়নের জন্য ব্যবহার করছে পাকিস্তান। তবে সেই সময় ভারতের আপত্তি গ্রাহ্য করেনি আইএমএফ। শুধু তাই নয়, অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন গত ৯ মে এই ঋণ সংক্রান্ত চুক্তি পর্যালোচনা সম্পন্ন করেছিল আইএমএফ বোর্ড। সেই সময় পাকিস্তানকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ভোটাভুটি হয় বোর্ডে। সেই ভোটাভুটি থেকে বিরত থাকে ভারত।