সুস্মিতা সেন বরাবরই স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটতে ভালোবাসেন। ১৯ বছরে ব্রহ্মাণ্ড সুন্দরীর খেতাব জিতে ইতিহাস রচেছিলেন এই বঙ্গতনয়া আর ২১ বছর বয়সে কন্যা সন্তান দত্তক নেওয়ার সাহস দেখিয়েছিলেন। নব্বইয়ের দশকে সুস্মিতার এই সিদ্ধান্ত অবাক করেছিল সকলকেই। বিয়ে না করেই সুস্মিতার ‘মা’ হওয়ার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সবাই। কোনও কিছুর তোয়াক্কা করেননি সুস্মিতা।
দুই দত্তক কন্যা রেনে এবং আলিশাকে নিয়েই সুখের সংসার সুস্মিতার। পঞ্চাশের গণ্ডি পেরিয়ে আজও মনের মতো জীবনসঙ্গী খুঁজে পাননি সুস। ২৪ বছর বয়সী
ভারতবর্ষের মতো দেশে দত্তক নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া বেশ জটিল। আর একা মা কিংবা বাবার ক্ষেত্রে সেই লড়াই আরও দীর্ঘমেয়াদি। সুস্মিতা একবার বলেছিলেন যে কীভাবে একটা সময় তিনি তাঁর বড় মেয়ের সাথে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা পর্যন্ত করেছিলেন। ডাঃ শিন গুরিবের সাথে কথা বলার সময় সুস্মিতা জানান, ‘আমার বয়স যখন ২১ বছর, আমি জানতাম আমি কী চেয়েছিলাম। আইনি লড়াই ২১ বছর থেকে ২৪ বছর বয়স পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। একবার এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর আমার মেয়ে আমার সঙ্গেই ছিল। কিন্তু ফ্যামিলি কোর্ট আমার পক্ষে রায় না দিলে কী হবে? তারা বাচ্চাটিকে যদি তাদের সাথে নিয়ে যায়?’ মনে হাজারো শঙ্কা, তাই একটা পরিকল্পনা ছিল নায়িকার। সুস্মিতা বলেন, ‘শুনানির পর আমি আমার বাবাকে গাড়ি নিয়ে তৈরি থাকতে বলেছিলাম। আমরা তাঁকে (রেনেকে) নিয়ে যাব। আমার বাবা বলেছিলেন যে এমন কিছু হবে না। কিন্তু আমি অনড় ছিলাম যে তাঁরা আমার সন্তানকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারবে না’।
বাবার সমর্থন প্রসঙ্গে সুস্মিতা বলেন, ‘আমি আমার বাবার জন্য গর্বিত। আমার সন্তানরা আজ তাঁর কারণেই আমার সঙ্গে রয়েছে, তাও আবার এমন একটি দেশে যেখানে একটি সন্তানকে দত্তক নেওয়ার জন্য বাবা বা বাবার মতো কাউকে থাকতে হবে। আদালত তাঁকে বলেছিল যে তাঁর সন্তানের ভরণপোষণের জন্য তাকে তাঁর আর্থিক অবস্থা ব্যাখ্যা করতে হবে। এ ছাড়া তাঁর অর্ধেকের বেশি সম্পদে স্বাক্ষর করতে হবে। কিন্তু আমার বাবা আদালতে বলেছিলেন যে আমি ধনী লোক নই এবং আপনি যদি এর অর্ধেক নেন তবে আমার কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। আমি নিঃশর্তভাবে তাঁর নামে সবকিছু স্বাক্ষর করতে এসেছি।

’
সুস্মিতা বলেছিলেন যে কীভাবে তাঁর বাবাকে অনেকে সতর্ক করেছিল যে কেউ মেয়েকে বিয়ে করবে না কারণ সুস্মিতা সিঙ্গল মা। এ বিষয়ে তাঁর বাবা জানিয়েছিলেন, তিনি সুস্মিতাকে এমনভাবে বড় করেননি যে তিনি কেবল কারও স্ত্রী হতে পারেন। বরং মেয়েকে নিজের শর্তে বাঁচতে শিখিয়েছেন তিনি। পরবর্তীতে আরও এক কন্যা সন্তান দত্তক নেন সুস্মিতা।