দুর্গাপুরকাণ্ডে নির্যাতিতার বয়ান নিয়েই প্রশ্ন! আদৌ হয়েছিল গণধর্ষণ?

Spread the love

গত ১০ অক্টোবর দুর্গাপুর কলেজ ক্যাম্পাসের কাছে গণধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত মেডিক্যাল ছাত্রীর সহপাঠীকে এবার গ্রেফতার করা হল। এরই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ দাবি করেছে, কোনও গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, নির্যাতিতা এবং তাঁর সহপাঠী ক্যম্পাস ছেড়েছিলেন ৭টা ৫৪ মিনিটে। এরপর সেই সহপাঠী ক্যাম্পাসে ফিরে আসে রাত ৮টা ৪২ মিনিটে এবং ৮টা ৪৮ মিনিটে সেই সহপাঠী ফের ক্যাম্পস ছেড়ে চলে যান। তারপর সেই নির্যাতিতাকে নিয়ে সহপাঠী ফের ক্যম্পাসে ঢোকেন রাত ৯টা ২৯ মিনিটে। প্রথমে নির্যাতিতা এবং সহপাঠী দাবি করেছিলেন, তাঁরা ডিনার করতে ক্যাম্পাসের বাইরে গিয়েছিলেন। এদিকে নির্যাতিতা দাবি করেন, ধর্ষণের পর অভিযুক্তরা তাঁর সহপাঠীকে ডেকে নেন। তবে পুলিশি জেরায় সেই সহপাঠী অন্য কথা বলেন। আর বয়ানে অসঙ্গতি থাকায় গ্রেফতার হয়েছে সেই সহপাঠী।

জানা গিয়েছে, ধৃত সহপাঠী মালদার বাসিন্দা। গত ১১ অক্টোবরই তাকে আটক করা হয়েছিল। অবশেষে গতকাল তাকে গ্রেফতার করা হয়। আসানসোল-দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার চৌধুরী জানিয়েছেন, নির্যাতিতার সহপাঠী সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। এর আগে গ্রেফতার হওয়া অন্যদের ভূমিকাও পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তদন্ত এবং মেডিক্যাল রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ঘটনা একজন সন্দেহভাজনই ঘটিয়েছে। পুলিশ দাবি করছে, নির্যাতিতা যখন প্রথমবার হাসপাতালে ভর্তি হন, তখন এক ডাক্তারকে তিনি বলেছিলেন, ধর্ষণ একজন করে, বাকি আরও তিনজন সেখানে উপস্থিত ছিল। এদিকে পুলিশি অভিযোগে তিনি দাবি করেন, পাঁচজন তাঁকে টেনেহিঁচড়ে জঙ্গলে নিয়ে যায় এবং গণধর্ষণ করে। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র পুলিশ অফিসার বলেন, রাত সাড়ে ৯টা নাগাদের যে সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে, তাতে দেখা যায়, নির্যাতিতা ‘শান্ত ভাবে’ ক্যাম্পাসে ঢুকছেন। এই আবহে পুলিশের প্রশ্ন, যে তরুণীকে টেনেহিঁচড়ে জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তার কিছু প্রমাণ বা চিহ্ন তো থাকবে।

উল্লেখ্য, নির্যাতিতা তরুণী ওড়িশার জলেশ্বরের বাসিন্দা। নির্যাতিতার প্রাথমিক অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর রাত আটটা নাগাদ ওই পড়ুয়া এক সহপাঠীর সঙ্গে কলেজের বাইরে খেতে বেরিয়েছিলেন। সেই সময় কয়েকজন যুবক ওই তরুণীর পথ আটকায় এবং জোর করে হাসপাতালের পিছনের দিকে থাকা একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। এদিকে দুষ্কৃতীদের তাড়া খেয়ে তরুণীর সঙ্গে থাকা বন্ধুটি পালিয়ে যান বলে জানা যায়। এদিকে গণধর্ষণ করার পর ডাক্তারি পড়ুয়ার মোবাইলটি ছিনিয়ে নেয় দুষ্কৃতীরা। ৩ হাজার টাকাও নাকি চাওয়া হয়েছিল সেই তরুণীর থেকে। তা না পেয়ে অভিযুক্তরা নাকি নির্যাতিতাকে মারধরও করেছিল। এই আবহে নিজের অভিযোগপত্রে নির্যাতিতা দাবি করেন, ৫ জন মিলে তাঁকে ধর্ষণ করেছিল। এদিকে অভিযোগপত্রে সেই সহপাঠীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নির্যাতিতার বাবা। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় গ্রেফতার করেছে – শেখ সফিকুল, শেখ নাসিরুদ্দিন, অপু বাউরি, ফিরদৌস শেখ এবং শেখ রিয়াজউদ্দিন। এদিকে ধৃত সহপাঠীর নাম গোপন রাখা হয়েছে নির্যাতিতার পরিচয় গোপন রাখার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *