বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। আসন্ন নির্বাচনে বিহারে যে একটা বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছেন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর ও তাঁর দল জন সুরজ পার্টি, তা আগেই অনুমান করা হয়েছিল। আর সেই নির্বাচনের মুখে বড় ঘোষণা করলেন জন সুরাজ পার্টির সুপ্রিমো।প্রশান্ত কিশোর সাফ জানিয়ে দিলেন, তিনি এই নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না। অর্থাৎ সরাসরি ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।
বার্তা সংবাদ এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিহার ভোটে লড়াই না করার ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। তিনি বলেন, ভোটে না দাঁড়িয়ে সাংগঠনিক কাজে মনোনিবেশ করতে চান তিনি। তাঁর কথায়, ‘আমি নির্বাচনে লড়তে চেয়েছিলাম, কিন্তু দলের সিদ্ধান্তই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এবং আমিও তার পক্ষে। দলের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে আমার দলের অন্যান্য প্রার্থীদের জেতাতে মনোযোগ দেওয়া উচিত, তাই আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি না…।’ অন্যদিকে সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে প্রশান্ত কিশোর বলেন, ‘দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আমার বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা উচিত নয়। সেই কারণে, তেজস্বী যাদবের বিরুদ্ধে রাঘোপুর থেকে অন্য একজন প্রার্থীকে দল ঘোষণা করেছে। এটি ছিল দলের বৃহত্তর স্বার্থে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত। যদি আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতাম, তবে এটি আমাকে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করত।’
একই সঙ্গে তিনি জন সুরজের জন্য বড় লক্ষ্য স্থির করেন। স্পষ্ট করেন, ১৫০টির কম আসন পেলে সেটা তাঁদের কাছে পরাজয়ের সমান হবে। পিকে বলেন, ‘আমরা বিহারকে জমি মাফিয়া, বালি মাফিয়া এবং অন্যান্য সকল ধরণের মাফিয়া থেকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। এই লক্ষ্যে, আমরা ছয়টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, যার মধ্যে রয়েছে ভুয়ো নিষেধাজ্ঞা নীতি বাতিল করা।’ প্রশান্ত কিশোর বলেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে আমরা হয় ভালোভাবে জিতব অথবা বড়সড় পরাজয়ের সম্মুখীন হব। হয় ১০-এর কম আসন পাব অথবা ১৫০-এর বেশি আসনে জিতব। এর মাঝে আর কিছুর সম্ভাবনা নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘১৫০-র কম আসন, এমনকী যদি তা ১২০ বা ১৩০ হয়, তা আমার জন্য পরাজয় হবে। যদি আমরা ভালো করি, তবে বিহারকে রূপান্তরিত করার এবং দেশের ১০টি উন্নত রাজ্যের মধ্যে এটিকে স্থান দেওয়ার ম্যান্ডেট আমরা পাব। যদি আমরা যথেষ্ট ভালো না করি, তবে এর অর্থ হবে জনগণ আমাদের উপর যথেষ্ট আস্থা দেখাননি এবং আমাদের উচিত আমাদের রাস্তা ও সমাজের রাজনীতি চালিয়ে যাওয়া।’ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর যে বিহারে আসন্ন নির্বাচনে না লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা মঙ্গলবারই খানিকটা আন্দাজ করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। জন সুরজ পার্টির তরফে রাঘোপুর বিধানসভা কেন্দ্রে চঞ্চল সিংকে প্রার্থী ঘোষণা করার পরেই জল্পনা বাড়তে থাকে। কারণ, অতীতে প্রশান্ত কিশোর নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি যদি প্রার্থী হন, তবে রাঘোপুর বা তাঁর নিজের এলাকা কারগাহার বিধানসভা কেন্দ্রের হয়ে লড়বেন। বর্তমানে ওই আসনেই প্রতিনিধিত্ব করছেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। প্রথমে কারগাহার বিধানসভা কেন্দ্রে রীতেশ রঞ্জন পাণ্ডেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর রাঘোপুর বিধানসভা কেন্দ্রে চঞ্চল সিংকে প্রার্থী ঘোষণা করে জন সুরজ পার্টি।
