Nitin Gadkari challenged critics: ভবিষ্যতে দিল্লির রাস্তায় আবর্জনা থেকে উৎপাদিত হাইড্রোজেনে বাস চলতে পারে। আবর্জনাকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর করার এমনই দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা জানালেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতীন গড়কড়ি।
দিল্লিতে বিজেপির তরফে একটি ইয়ুথ কনক্লেভে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মন্তব্য, ভবিষ্যতে এমন সময় আসবে, যখন গাড়ি হাইড্রোজেনের সাহায্যে চলবে। তাঁর মতে, পুর এলাকার বর্জ্য থেকে হাইড্রোজেন উৎপাদন করে তা গাড়ির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। সংবাদ সংস্থা পিটিআই প্রতিবেদন অনুযায়ী, নীতীন গড়কড়ি বলেন, ‘অনেকেই প্রশ্ন করেন, এটা কী ভাবে সম্ভব? গত ৫০ বছরে আমি যা যা বলেছি, তার মধ্যে এমন কোনও বিষয় কি রয়েছে, যা সত্যি হয়নি?’ তিনি আরও বলেন, ‘এই আবর্জনাগুলোকে আলাদা করে বাছাই করা হবে এবং বায়োডিজেস্টারের মাধ্যমে হাইড্রোজেন তৈরি করা হবে। দিল্লির বাসগুলো সেই জ্বালানিতেই চলবে। সবকিছুই সম্ভব।’ ভবিষ্যতের পরিবহন প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, তিনি এমন একটি সময়ের কল্পনা করেন যখন যানবাহনগুলো চলার জন্য জল ব্যবহার করে হাইড্রোজেন তৈরি করবে। তাঁর এই পরিকল্পনা নিয়ে অনেকের সংশয়ের জবাবে নীতীন গড়কড়ি বলেন, ‘মানুষ জানতে চেয়েছেন এটি কীভাবে ঘটবে। গত ৫০ বছরে এমন কোনও সময় কী এসেছে, যখন আমার করা কোনও ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি প্রমাণিত হয়নি?’
আবর্জনা থেকে এক্সপ্রেসওয়ে
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতীন গড়কড়ির দাবি, দিল্লির প্রায় ৮০ লক্ষ টন আবর্জনার একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে। এবার সেই বর্জ্যকে আলাদা করে বায়োডিজেস্টার ব্যবহার করে হাইড্রোজেন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এ ভাবে ২০২৭ সালের মধ্যে সারা দেশ আবর্জনা মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অর্থনৈতিক সুবিধার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তাঁর নিজের সংসদীয় আসনের মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন পরিশোধিত বর্জ্য জল বিক্রি করে বার্ষিক প্রায় ৩২৫ কোটি টাকা আয় করছে।
ই২০ পেট্রল নিয়ে নীতীন গড়কড়ির বক্তব্য
সম্প্রতি পেট্রলের সঙ্গে ইথানল মিশিয়ে তা গাড়ির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা শুরু হয়েছে। এবার একই পথে হেঁটে আইসোবুটানল তৈরির কাজ হচ্ছে, যেটা মেশানো হবে ডিজেলের সঙ্গে। ই২০ পেট্রল (২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত) বিক্রির বাধ্যবাধকতা নিয়ে সমালোচনা এবং এর ফলে গাড়ির জ্বালানি দক্ষতা (মাইলেজ) কমে যাওয়ার অভিযোগের জবাবে মঙ্গলবার সমালোচকদের খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানতে চান, এই জ্বালানির কারণে সমস্যায় পড়েছে এমন একটি গাড়ির নাম কেউ বলতে পারবে কিনা। এখানে ‘বিকশিত ভারত কনক্লেভ’-এ বক্তব্য রাখার সময় নীতীন গড়কড়ি আরও বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর ভারতের এই নির্ভরশীলতা একদিকে যেমন অর্থনৈতিক বোঝা—কারণ জ্বালানি আমদানিতে বার্ষিক ২২ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় হয়-তেমনই এটি পরিবেশের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই দেশের অগ্রগতির জন্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানি গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর কথায়, ‘ই২০ পেট্রলের কারণে কোনও গাড়ি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে, এমন একটিও ঘটনা নেই। দেশে কী এমন কোনও গাড়ি আছে যা ই২০ পেট্রল ব্যবহারের কারণে সমস্যার পড়েছে? কেবল একটির নাম বলুন।’ তিনি আরও বলেন, ‘…অধিক ইথানল মিশ্রিত পেট্রল চালুর বিষয়ে ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এগুলো আসলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত (পেইড) ক্যাম্পেইন।’
