শ্রমিক বিক্ষোভের মুখে ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশে বৃদ্ধি করা হয়েছে বেতন। তবে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো সত্ত্বেও নয়ডার কয়েকটি এলাকায় আজও শ্রমিকরা পাথর ছুড়েছে পুলিশকে লক্ষ্য করে। এছাড়া আজও অনেক শিল্পাঞ্চলে কারখানার বাইরে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকরা। উত্তেজনার মধ্যে অধিকাংশ শিল্প কারখানায় কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আজ নয়ডার সেক্টর ৭০-র ক্লিও কাউন্টি সোসাইটির কাছে পাথর ছোড়ে বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা। পুলিশকে নিশানা করে চলে এই পাথর ছোড়া। পুলিশ পরে কোনওরকমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এছাড়াও, সেক্টর ৮০-তেও সকালের দিকে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। সেক্টর ৭০-র পাথর ছোড়ার ঘটনায় ১৫ জনেরও বেশি লোককে আটক করেছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত দুই দিনের হিংসার ঘটনায় মোট ৭টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছড়ানোর জন্য ২টো এক্স হ্যান্ডেলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গতকাল রাতে নয়ডার প্রতিটি থানা অফিসারের সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথা বলে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন উত্তরপ্রদেশের ডিজিপি।
গতকাল গভীর রাতে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেন। নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, গৌতম বুদ্ধ নগর এবং গাজিয়াবাদের অদক্ষ শ্রমিকরা এখন প্রতি মাসে ১১,৩১৩ টাকার পরিবর্তে ১৩,৬৯০ টাকা পাবেন। আধা-দক্ষ শ্রমিকরা ১৫,০৫৯ টাকা এবং দক্ষ শ্রমিকরা ১৬,৮৬৮ টাকা ন্যূনতম মজুরি পাবেন। অন্যান্য পৌর এলাকায় অদক্ষ শ্রমিকদের জন্য সংশোধিত ন্যূনতম মাসিক বেতন ১৩,০০৬ টাকা, আধা-দক্ষ শ্রমিকদের ক্ষেত্রে তা ১৪,৩০৬ টাকা এবং দক্ষ শ্রমিকদের জন্য তা ১৬,০২৫ টাকা। বাকি জেলাগুলিতে অদক্ষ শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন প্রতি মাসে ১২,৩৫৬ টাকা, আধা-দক্ষ শ্রমিকদের ১৩,৫৯১ টাকা এবং দক্ষ শ্রমিকদের জন্য তা ১৫,২২৪ টাকা হবে।
এর আগে বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে গত ১৩ এপ্রিল নয়ডার রাস্তা অবরোধ করে প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক। সেই ঘটনায় ৩০০ জনের মতো বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নয়ডায় এই বিক্ষোভের জেরে গুরুত্বপূর্ণ সব সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। নয়ডার প্রায় ৮০ জায়গায় একযোগে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। পরে সেই বিক্ষোভ হিংসাত্মক আকার ধারণ করে। পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটে। নয়ডার ফেজ ২ এবং সেক্টর ৬৩-তে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে বিক্ষোভকারীদের।

উল্লেখ্য, হরিয়ানা সরকার সম্প্রতি ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা করে। এরপরই উত্তরপ্রদেশের নয়ডাতে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে পথে নামেন হাজার হাজার শ্রমিক। বিক্ষোভের মুখে উত্তরপ্রদেশ সরকারও ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি করেছে। তবে এই হিংসাত্মক বিক্ষোভ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে যে, শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখিয়ে চলে যায়। এরপর কিছু ‘বহিরাগত’ নয়ডায় অশান্তি উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।