Osman Hadi Death Reaction in B’desh। ভারত বিদ্বেষ উগরে দিলেন বাংলাদেশের ইউনুস সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা

Spread the love

বাংলাদেশি জনগণের ‘লড়াই’ নাকি থামবে না। ওসমান হাদির মৃত্যুর পর এমনই মন্তব্য করেন সদ্য ইউনুস সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করা বাংলাদেশি নেতা আসিফ মাহমুদ। ভোররাতে ঢাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় ভারতের নাম না নিয়েও আসিফ বলেন, ‘হাদিকে যারা হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। অন্যথায় স্বাধীনতাকামী জনগণ কোনোভাবেই লড়াই থামাবে না। আমাদের আন্দোলন আরও কঠোর থেকে কঠোরতর হবে।’ উল্লেখ্য, বাংলাদেশি কট্টরপন্থীদের হাদি, হাদিকে গুলি করা ফয়সল করিম নাকি ভারতে পালিয়ে গিয়েছে। যদিও এর পরিপ্রেক্ষিতে কোনও প্রমাণ নেই। তবে এই সুযোগে ভারত বিদ্বেষের ঝড় উঠেছে সেই দেশে।

এদিকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন আসিফ। তিনি বলেন, ‘শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার মাধ্যমে নিষিদ্ধ ও পলাতক আওয়ামী লীগ এবং তাদের মিত্ররা জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই দেশের মানুষ রক্ত দিয়ে রাজপথ রাঙিয়েছে, কিন্তু হার মানেনি। রক্ত ঝরলে এ দেশের জনগণের সঙ্গে কেউ টিকতে পারবে না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে টিকিয়ে রাখতে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক যে সংগ্রাম শরিফ ওসমান হাদি চালিয়ে যাচ্ছিলেন, সেখানে হানাহানি বা সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর কোনও স্থান নেই। তাঁর সেই লড়াইকে গঠনমূলকভাবে এগিয়ে নিতে হবে। আজ আবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছাত্র-জনতা একত্রিত হয়েছে। হাদির খুনিদের হস্তান্তর না করা পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।’

উল্লেখ্য, ওসমান হাদিকে গুলি করা হয় গত ১২ ডিসেম্বর। ১৮ ডিসেম্বর ওসমান হাদির মৃত্যু হয়েছে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে। এই ঘটনা সামনে আসার পরপরই বাংলাদেশ জুড়ে তাণ্ডব শুরু হয়। ইনকিলাব মঞ্চের সমর্থক এবং হাসিনা বিরোধীরা ঢাকা, রাজশাহী সহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ঢাকার ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের ধ্বংসস্তূপে ফের হামলা হয়। ধরানো হয় আগুন। রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের অফিসে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে উন্মত্ত জনতা। এদিকে বাংলাদেশের সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’ এবং ‘ডেইলি স্টার’-এর অফিসেও তাণ্ডব চালানো হয় এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরই সঙ্গে ভারত বিরোধী স্লোগানও শোনা যাচ্ছে – ‘দিল্লি না ঢাকা’, ‘ভারতের আগ্রাসন, ভেঙে দাও-গুঁড়িয়ে দাও’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *