Pakistan Army Camp Blast। পাকিস্তানে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি ঢুকে পড়ল সামরিক ক্যাম্পে

Spread the love

পাকিস্তানে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা। খাইবার পাখতুনখোয়ার উত্তর ওয়াজিরিস্তানে এই সন্ত্রাসী হামলাটি ঘটে। এই হামলায় ৭ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। ওয়াজিরিস্তান অঞ্চলের মীর আলি জেলায় যে স্থানে এই হামলা চালানো হয়েছে তা আফগানিস্তান সীমান্তের খুব কাছাকাছি। জানা গিয়েছে, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান এই সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। জানা যায়, বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি সামরিক ক্যাম্পে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। সেই সময় গাড়িটি দেয়ালে ধাক্কা মারলে বিস্ফোরণ হয়। এই সন্ত্রাসী হামলার ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায়ও ভাইরাল হয়েছে।

আফগান-পাক সংঘর্ষবিরতির মাঝেই আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিয়ো বার্তা প্রকাশ করে টিটিপি প্রধান নূর ওয়ালি মেহসুদএর আগে গত ৯ অক্টোবর মধ্যরাতের দিকে কাবুলের পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। পাকিস্তানের তরফ থেকে প্রথমে দাবি করা হয়েছিল, সেই হামলায় টিটিপি প্রধান নূর ওয়ালিকে খতম করেছে তারা। উল্লেখ্য, ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি ও আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের কেন্দ্রে রয়েছে নূর ওয়ালি মেহসুদ। তবে এখন জানা গেল, তিনি বেঁচে আছেন। এরই মাঝে ওয়াজিরিস্তানে আজকের এই আত্মঘাতী হামলা হল। এর জেরে ফের পাক-আফগান সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বাইতুল্লাহ মেহসুদের নেতৃত্বে পাকিস্তানের ফেডারেল শাসিত উপজাতি এলাকার বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে একত্র করে টিটিপি গঠন করা হয়। এই গোষ্ঠীকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আল-কায়েদা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এর জন্ম। বর্তমানে টিটিপির মূল লক্ষ্য হল পাকিস্তানের সরকারকে সরিয়ে তাদের নিজস্ব মতাদর্শে একটি ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানের তালিবান সরকার টিটিপি সদস্যদের আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানে হামলা করছে। অপরদিকে তালিবানের অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার এবং সেনা ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গি সংগঠনকে সাহায্য করছে। এই আবহে গত ৯ অক্টোবর মধ্যরাতের দিকে কাবুলের পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর পাক সীমান্তে সেনা আউটপোস্টে পালটা হামলা চালায় আফগনরা। সেই হামলায় পাকিস্তানের ৫৮ সেনা জওয়ান নিহত বলে দাবি করে তালিবান। এদিকে পাক সেনা দাবি করে, তাদের ২৩ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে আফগানিস্তানের রাস্তায় পাকিস্তানি সেনার উর্দির প্যান্ট ঝুলিয়ে রাখার ছবি ও ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে এই সংঘর্ষের সময়। এদিকে বহু পাকিস্তানি সেনাকে তালিবানরা আটক করেছে। সেই সব বন্দি পাক সেনার ভিডিয়োও প্রকাশ্যে আসে। এই আবহে গত ১৪ অক্টোবর রাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল। তাতে কমপক্ষে ১৫ আফগান নাগরিক এবং পাকিস্তানি আধাসামরিক বাহিনীর ৬ জন নিহত হয়েছিল। তারপর আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশ ও রাজধানী কাবুলে পাকিস্তানি বিমান বাহিনী ‘নির্ভুল হামলা’ চালিয়েছে। এরপরই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই পক্ষ। যদিও তালিবান দাবি করছে, কাবুলের বিস্ফোরণটি গ্যাসের ট্যাঙ্কার থেকে হয়েছে। এদিকে দুই দেশই দাবি করেছে অপরজনের অনুরোধে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *