সারদা চিটফান্ড কাণ্ডে আপাতত স্বস্তি পেলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। তাঁর আগাম জামিন খারিজের দাবিতে সিবিআই যে আবেদন করেছিল, তা শুক্রবার বাতিল করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। ফলে বহাল থাকছে রাজীব কুমারের আগাম জামিন। তবে এখানেই শেষ নয়, রাজীবের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার যে পৃথক মামলা রয়েছে, তার উপর নির্ভর করেই ভবিষ্যতে স্থির হবে তাঁর আইনি নিরাপত্তা। আট সপ্তাহ পর সেই মামলার শুনানি।
সারদা তদন্তের শুরু থেকেই রাজীব কুমারকে ঘিরে উত্তেজনা ও বিতর্ক ছিল তুঙ্গে। অভিযোগ ছিল, তদন্তে সহযোগিতা না করার পাশাপাশি প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। শিলংয়ে দীর্ঘ জেরা, কলকাতায় হাজিরা সবই পার করেছেন রাজীব। কিন্তু সিবিআই দাবি করে, তাঁরা প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য পাননি। এমনকি রাজীবের বাড়িতে গিয়ে তাদের অফিসারদের হেনস্তার অভিযোগও তুলে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার নিষ্পত্তি এখনও বাকি।
শুক্রবার শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আগাম জামিন খারিজের পক্ষে জোরালো সওয়াল তুলে বলেন, এই মামলা অত্যন্ত গুরুতর। সিবিআইয়ের মহিলা অফিসাররাও হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন। সবাই মিলে রাজীবকে বাঁচাতে চাইছে। কিন্তু প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ কোনও পক্ষপাত না করে জানিয়ে দেয়, এভাবে বছরের পর বছর পরে এই মামলা টেনে আনা যুক্তিযুক্ত নয়। শুধু হয়রানির উদ্দেশ্যেই কি এই আবেদন? সেই প্রশ্নও তোলেন আদালত।
রাজীবের আইনজীবী বিশ্বজিৎ দে স্পষ্ট করেন, রাজীব তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও কঠোর ভাষায় জানান, এটা রাজনীতির মামলা নয়, অথচ কেন্দ্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে টেনে আনছে। সারদা তো আর্থিক তছরুপের মামলা। রাজীবের বিরুদ্ধে তেমন অভিযোগ নেই।

উল্লেখযোগ্য, রাজীব কুমার ছিলেন রাজ্য সরকারের গঠিত সিট-এর অন্যতম সদস্য, যারা প্রথম সারদা তদন্ত শুরু করে। ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিলে শুরু হয় কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের নতুন অধ্যায়। ২০১৯ সালে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পেলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। তার পর থেকে আইনি লড়াই চলেছে ধাপে ধাপে।