ভোটের দামামা-এ হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর! অবস্থান স্পষ্ট করলেন শাহ

Spread the love

বছর ঘুরলেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। আর তার আগে এসআইআর তথা ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে রাজ্যে বাড়ছে দাবদাহ। ভোটের আগে বাংলায় এসআইআর হবে কিনা, সেই প্রশ্নে জল্পনা বাড়ছিল দিন দিন। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি এবং রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিক্রিয়ায় সেই বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে। এই আবহে এসআইআর নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর নিয়ে কয়েকদিন আগে অমিত শাহকে নিশানা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘আজ তক’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রীকে পাল্টা জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিহারে অনেকে একই কথা বলেছিলেন। সেখানে সবাই নথি জমা দিয়েছে। এবং নির্বাচনও হবে। বাংলাতেও তাই হবে।’ তাঁর এই মন্তব্যের পর কার্যত স্পষ্ট, আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজ্যে বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (এসআইআর) চালু করতে চলেছে কেন্দ্র। পাশাপাশি এসআইআর নিয়ে সরব হওয়ার জন্য লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছেন করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, ‘দেশে এই প্রথম এসআইআর হচ্ছে না। ১৯৫৩ সালে এটা শুরু হয়। অর্থাৎ রাহুল গান্ধীর ঠাকুরমার বাবার সময়ে এটা হয়েছে। এটা তাঁর ঠাকুরমার সময়ে হয়েছে। তাঁর বাবার সময়ে হয়েছে। তাঁর মায়ের সময়েও হয়েছে। এই সত্যটা হয়তো রাহুলকে কেউ বলেননি। ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য এসআইআর হয়। ১০, ১২ কিংবা ১৭ বছর পর অনেক ভোটারেরই হয়তো মৃত্যু হয়েছে। কাজের জন্য অন্য জায়গায় হয়তো অনেকে চলে গিয়েছেন। তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় রয়ে গিয়েছে।’

বিরোধীদের নিশানা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভোট ব্যাঙ্কে প্রভাব পড়বে বলেই বিরোধীরা সরব হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায়। সেখানে অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকায় তোলা হয়েছে।’ অনুপ্রবেশকারী, মৃত ভোটারদের নাম বাদ দিতেই এসআইআর-এ জোর দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। অমিত শাহর মতে, নির্বাচনী জালিয়াতি রোধের ক্ষেত্রে এসআইআর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এতে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে বলে তিনি মত দেন। আর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে যেভাবে বিহারের উদাহরণ টানা হয়েছে, তা থেকে স্পষ্ট, বাংলায় এসআইআর এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘এসআইআর-কে হাতিয়ার করে বাংলায় এনআরসি চালুর চক্রান্ত চলছে। বৈধ ভোটার বাদ গেলে মানুষ চুপ করে থাকবে না।’ মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কেন্দ্র ও বিজেপি এই সমীক্ষার মাধ্যমে ভোটার তালিকায় হেরফের ঘটাতে চাইছে। বাংলায় এসআইআর-র ভাবনা অমিত শাহর ‘খেলা’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। অমিত শাহ কিন্তু একেবারে অন্য সুরে কথা বলেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অমিত শাহর এই মন্তব্যে কেন্দ্রের অবস্থান পরিষ্কার হয়ে গেল। এখন প্রশ্ন-তৃণমূল কংগ্রেস এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা কতদূর পর্যন্ত নিয়ে যাবে। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ‘বাংলার মানুষকে ভয় দেখিয়ে কোনও সমীক্ষা চালাতে দেওয়া হবে না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *