Pakistan Defence Minister on USA। ‘আমেরিকা আমাদের টয়লেট পেপারের মতো ব্যবহার করে’

Spread the love

পাকিস্তান ও আমেরিকার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, আমেরিকার প্রতি পাকিস্তানের মনোভাব আবার বদলাচ্ছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে এমনটাই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আমেরিকা সম্পর্কে এক বিস্ফোরক বক্তব্য দিয়েছেন তাদের দেশের সংসদে দাঁড়িয়ে। খাজা অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানকে আমেরিকা ব্যবহার করেছে।

পাকিস্তানের সংসদে দাঁড়িয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, ‘আমেরিকা পাকিস্তানকে টয়লেট পেপার হিসেবে ব্যবহার করত। তাদের কাজ শেষ হয়ে গেলে তারা আমাদের ছুঁড়ে ফেলে দেয়।’ খাজা আসিফ তাঁর বিবৃতিতে পাকিস্তানের দুই প্রাক্তন সেনাপ্রধানকেও টার্গেট করেছেন। তিনি জেনারেল জিয়াউল হক ও পারভেজ মোশাররফকে এর জন্য দায়ী করেছেন। সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ১৯৮০-র দশকে আফগানিস্তানে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটি বিদ্রোহ গড়ে উঠেছিল। সেই বিদ্রোহ মার্কিন নির্দেশে পরিচালিত হয়েছিল। সে সময় পাকিস্তান সরকার নিজের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে এই বিদ্রোহের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল, যা ছিল বড় ভুল। তিনি আরও বলেন, বাস্তবে সেই লড়াই বিদ্রোহ বা জিহাদ ছিল না।

খাজা আসিফ বলেন, ‘রাশিয়া আফগানিস্তান দখল করেনি। আমাদের এই যুদ্ধে জড়িত হওয়া উচিত হয়নি।’ পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে বলেন, ‘ধর্ম বা ইসলামের স্বার্থে আফগানিস্তানের মাটিতে যে দুটি যুদ্ধ হয়েছে তাতে আমরা অংশ নিয়েছিলাম। এর জন্য আমরা আমাদের পাঠ্যক্রম পরিবর্তন করেছি এবং আজ পর্যন্ত এই পাঠ্যক্রম পুনরুদ্ধার করা হয়নি। আমেরিকাকে খুশি করার জন্য আমরা আমাদের ইতিহাস নতুন করে লিখেছি। কিন্তু ফলাফল কী হয়েছিল?’

২০০১ সালের উল্লেখ করে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, ‘২০০১ সালেও আমরা একটি ভুল করেছি। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করার জন্য তালিবানের বিরুদ্ধে গিয়েছিলাম। আমেরিকা চলে গেছে, কিন্তু আমরা কষ্ট পাচ্ছি। এর কোনও ক্ষতিপূরণও দেওয়া যাবে না। আমরা আমেরিকার জন্য সবকিছু করেছি। তারা আমাদের আকাশসীমা, করাচি বন্দর ব্যবহার করেছে। আমরা আমাদের লোকজনকে যুদ্ধে লড়াই করার জন্য দিয়েছি। বিনিময়ে আমরা কী পেয়েছি? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেবল আমাদের ব্যবহার করে এবং তারপরে আমাদের টয়লেট পেপারের মতো ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে তারা।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *