রাজ্যে রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকা দখলমুক্ত করার অভিযানে এবার যোগ হল শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার পার্ক সার্কাস স্টেশন। সোমবার গভীর রাতে বিপুল পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করে স্টেশন চত্বর থেকে অবৈধ দোকান, গুমটি ও হকার উচ্ছেদের অভিযান চালায় রেল কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা দোকানপাট বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা এই অভিযানে স্টেশন এলাকা কার্যত সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করা হয়েছে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতেই পার্ক সার্কাস স্টেশন চত্বরে ব্যবসা করা হকার ও দোকানদারদের জায়গা খালি করার জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছিল। সোমবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ রেল পুলিশ, আরপিএফ, র্যাফ এবং জেলা পুলিশের বিশাল বাহিনী স্টেশন চত্বর ঘিরে ফেলে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আগে থেকেই কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।
অভিযান শুরুর আগে রেলের পক্ষ থেকে মাইকিং করে স্টেশন এলাকা ও রেলের জমি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীদের স্বেচ্ছায় দোকান সরিয়ে নেওয়ার জন্য কিছুটা সময়ও দেওয়া হয়। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেও অধিকাংশ দোকানদার তাঁদের দোকান না সরানোয় বুলডোজার নামিয়ে একে একে সমস্ত অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়।
পার্ক সার্কাস স্টেশন দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ হকার ও অস্থায়ী দোকানে ভরে যাওয়ার অভিযোগে শিরোনামে ছিল। যাত্রীদের অভিযোগ, স্টেশনের প্রবেশপথ এবং প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত দখলদারির কারণে প্রতিদিন যাতায়াতে চরম অসুবিধার মুখে পড়তে হত। অতীতে একাধিকবার উচ্ছেদের চেষ্টা হলেও তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর রেল কর্তৃপক্ষ স্টেশন চত্বর দখলমুক্ত করার বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই হাওড়া, শিয়ালদহ, দমদম, হাবরা ও যাদবপুর-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতাতেই এবার পার্ক সার্কাস স্টেশনেও অভিযান চালানো হল।

তবে এই উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, পুনর্বাসনের কোনও ব্যবস্থা না করেই বহু বছরের ব্যবসা এক রাতের মধ্যে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বহু পরিবারের রুজি-রুটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্টেশনে অবাধ যাতায়াতের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং রেলের জমি দখলমুক্ত করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। আগামী দিনেও রাজ্যের বিভিন্ন স্টেশন ও রেল সংলগ্ন এলাকায় একই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।