PM Modi on gold buying: পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা এবং অপরিশোধিত তেলের আকাশছোঁয়া দামের মধ্যে দেশবাসীকে এক অভাবনীয় আর্জি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডার সংরক্ষণের জন্য আগামী এক বছর সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার জন্য ভারতীয় পরিবারগুলির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ওয়ার্ক ফ্রম হোম, ভোজ্য তেল এবং পেট্রোল-ডিজেলের সংযমী ব্যবহার থেকে বিদেশ যাত্রায় হ্রাস টানার মতো একাধিক পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। আর প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য দেশবাসীর মধ্যে সাড়া ফেলে দিয়েছে। তবে তাঁর এই পরামর্শের নেপথ্যে বৃহত্তর আর্থিক উদ্বেগই কাজ করছে বলে মতামত বিশেষজ্ঞদের।
ভারতের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ
ট্রেডিং ইকোনমিক্স এবং আরবিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার প্রায় ৬৯০.৬৯ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা বাড়তেই গত ফেব্রুয়ারিতে এটি ৭২৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছলেও এপ্রিলের মধ্যে তা অনেকটাই কমেছে। আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডারের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ভারতের চলতি খাতের ঘাটতি (সিএডি) বেড়ে ৮৪.৫ বিলিয়ন ডলার হতে পারে, যা জিডিপি-র প্রায় ২ শতাংশ। এই সিএডি বৃদ্ধির অর্থ হল দেশে ডলারের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হচ্ছে। এছাড়া আরও একটি বড় কারণ হল সোনা। ২০২৬ অর্থবর্ষে ভারত প্রায় ৭২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সোনা আমদানি করেছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি। পৃথিবীতে সোনা কেনার ক্ষেত্রে ভারত অগ্রগণ্য। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সোনা আমদানিকারক দেশ। দেশটি তার প্রয়োজনীয় সোনার বেশিরভাগই বিদেশ থেকে কেনে, যার জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডলার খরচ হয়।
২০২৬ অর্থবর্ষে মোট আমদানি ব্যয়: ৭৭৫ বিলিয়ন ডলার
শুধুমাত্র চারটি পণ্যেরই ব্যয়: ২৪০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি
অপরিশোধিত তেল: ১৩৪.৭ বিলিয়ন ডলার
সোনা: ৭২ বিলিয়ন ডলার
উদ্ভিজ্জ তেল: ১৯.৫ বিলিয়ন ডলার
সার: ১৪.৫ বিলিয়ন ডলার

পরিসংখ্যানে আরও দেখা গেছে, চলতি অর্থবর্ষে ভারতের মোট আমদানির প্রায় ১০ শতাংশই হল সোনা। অর্থাৎ যদি সোনার আমদানি ৩০-৪০ শতাংশ কমে, তা হলে প্রায় ২০-২৫ বিলিয়ন ডলার বাঁচবে। অন্যদিকে, যদি আমদানি ৫০ শতাংশ কমে, তা হলে সাশ্রয় হবে ৩৬ বিলিয়ন ডলার। এই পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করা গেলে ভারতের চলতি খাতের ঘাটতির প্রায় অর্ধেক পূরণ করা যাবে। বর্তমানে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় এই বেঁচে যাওয়া ডলার দিয়ে প্রয়োজনীয় জ্বালানি কেনাও সম্ভব হবে। ভালো, ভারত তার চাহিদার প্রায় ৮৮ শতাংশ তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে, যার দাম মেটাতে হয় মার্কিন ডলারে।