অশান্তির আগুনে ফুটছে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর। পাকিস্তানি প্রশাসনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন সেখানের মানুষ। রাস্তায় নেমে তাঁরা বিক্ষোভে প্রতিবাদে নেমেছেন। এরই মাঝে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ দাবি করেছেন, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)র রাওয়ালকোট ও মীরপুরের বাসিন্দাদের আসল কাশ্মীরি বলা যায় না বলে। তাঁর দাবি, ওই এলাকার বাসিন্দারা তারা মূলত প্রথাগত কাশ্মীরি ভাষার পরিবর্তে পোটোহারি ও পাহাড়ি উপভাষায় কথা বলেন। আসিফের এই মন্তব্যের পর থেকে নতুন করে ক্ষোভের ঝড় পিওকে-তে। এরই মাঝে পাকিস্তানের শাসক জোটে থাকা পিপিপির বিলাওয়াল ভুট্টো, শাহবাজ সরকারের মন্ত্রী আসিফের মন্তব্য নিয়ে শেহবাজদের চরম কটাক্ষ করেছেন।
পাকিস্তানের সংসদে বক্তব্য রাখার সময় বিলাওয়াল পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) প্রসঙ্গে খোয়াজা আসিফের করা মন্তব্যের বিষয়ে আপত্তি জানান এবং বলেন যে, জাতীয়ভাবে স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে কথা বলার সময় জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের আরও সতর্ক হওয়া উচিত। শেহবাজের কাছে, বিলাওয়ালের অনুরোধ, ‘আপনি আপনার মন্ত্রীদের নিয়ন্ত্রণ করুন।’ উল্লেখ্য, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে ইসলামাবাদের যে দাবি, তার প্রেক্ষিতে খোয়াজা আসিফের মন্তব্য কোনও আত্মঘাতী গেলের চেয়ে কম নয়! এই মন্তব্যটি দ্রুতই পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের সোশ্যাল মিডিয়া ও রাজনৈতিক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। অনেকেই ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে তাদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে বসবাসকারী লক্ষ লক্ষ মানুষের পরিচিতি ও ঐতিহ্যকে অপমান করার অভিযোগ তোলেন।
এই অঞ্চলের ওপর নিজেদের অব্যাহত নিয়ন্ত্রণকে যৌক্তিক প্রমাণ করতে পাকিস্তান দশকের পর দশক ধরে আন্তর্জাতিক মহলের সামনে কাশ্মিরি পরিচয়ের একটি নির্দিষ্ট বয়ান তুলে ধরেছে। অথচ, পিওকে-র মিরপুর ও রাওয়ালকোটের মতো প্রধান জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোকে প্রকাশ্যে সেই পরিচয়ের আওতা থেকে বাদ দিয়ে পাকিস্তান নিজেই নিজের ভূ-রাজনৈতিক যুক্তিকে দুর্বল করে ফেলেছে। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বিলাওয়ালের বক্তব্য জোটের অভ্যন্তরীণ ক্রমবর্ধমান মতপার্থক্যের বিষয়টিকেই সামনে নিয়ে এসেছে, কারণ পাকিস্তান পিপলস পার্টি ক্রমশ নিজেকে একদিকে যেমন ক্ষমতাসীন জোটের শরিক হিসেবে, তেমনই অন্যদিকে বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচক হিসেবেও তুলে ধরছে। ফলত, পাকিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিলাওয়ালের বক্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
