পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তানি রেঞ্জারদের হাতে শাহজেব হাবিব নামের এক প্রতিবাদীর মৃত্যযুর পর সেখানের রাওয়ালকোটের কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতালে চলছিল শোকজ্ঞাপন অনুষ্ঠান। সেখানে জমায়েত হয় শোকার্তদের। তার ওপর পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর হামলা চলেছে বলে অভিযোগ।
রাওয়ালকোটে শেষ শ্রদ্ধার সমাবেশে পাকিস্তানের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনী সহিংস দমন-পীড়ন চালিয়েছে বলে স্থানীয় আন্দোলনকর্মী এবং জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) নেতারা অভিযোগ করার পর পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) উত্তেজনা তীব্রভাবে বেড়েছে। জেএএসি-র দাবি, ঘটনায় ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সরকারিভাবে এই বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। এদিকে, পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর তরফেও মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
মিডিয়া রিপোর্ট বলছে, সমাবেশে জেএএসি (JAAC)-এর নেতা ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন, যাদের অনেকেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি দাবি করেন। এই দমন অভিযান শুধু রাস্তার বিক্ষোভের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন যে, গত চার দিনে অঞ্চলজুড়ে চালানো ধারাবাহিক অভিযানে প্রায় ৩৫০ জন বাসিন্দাকে আটক করা হয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করেছেন যে, কর্তৃপক্ষ জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সিল করে দিয়েছে এবং দলটির বেশ কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে গোলাবারুদ রাখার অভিযোগসহ তাদের ভাষায় মনগড়া ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে।
পিটিআই-র রিপোর্ট বলছে, পাকিস্তানের মানবাধিকার সংস্থা সোমবার বলেছে যে, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) চলমান সহিংসতায় তারা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’ যেখানে সহিংস সংঘর্ষে চার পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১১ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
এদিকে, পিওকের উত্তাল পরিস্থিতির মাঝে কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া, তাদের নাগরিকদের ওই জায়গায় সফর করার ক্ষেত্রে ‘ট্রাভেল অ্যাডভাইসারি’ জারি করেছে। ইসলামাবাদে থাকা মার্কিন দূতাবাসও বলছে, সেদেশের যেসমস্ত নাগরিকরা পিওকেতে বেড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন, তাঁরা যেন সতর্ক থাকেন। রিপোর্ট বলছে, পিওকে স্থানীয় প্রশাসনও বলেছে, ৫ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত সেখানে পর্যটনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলেছেন।

জানা যাচ্ছে, এর আগে, জেএএসির তরফে সেই গোষ্ঠীর নেতাদের ওপর হামলা, ইন্টারনেট বন্ধ, ইলেকট্রিসিটির কমতি, মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব, সম্পদের শোষণ সহ একাধিক ইস্যুতে প্রতিবাদ চলে। সেই প্রতিবাদের পরই পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী পদক্ষেপ করে বলে জেএএসির অফিযোগ। পরিস্থিতি ঘিরে, পাকিস্তানি রেঞ্জার ও পাকিস্তানি ফেডারেল পুলিশ মোতায়েন রয়েছে পিওকের মুজাফ্ফরাবাদে।