আমেরিকায় এক ভারতীয় দম্পতির সঙ্গে প্রকাশ্যে বর্ণবিদ্বেষী আচরণের অভিযোগ ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, এক মার্কিন ব্যক্তি ভারতীয় দম্পতিকে উদ্দেশ্য করে অপমানজনক মন্তব্য করছেন এবং দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার কথাও বলছেন। ঘটনাটি ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বহু নেটিজেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভাইরাল ভিডিওটির শুরুতে ভারতীয় দম্পতিকে নিজেদের কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। সেই সময় একটি গাড়ির ভিতর থেকে এক ব্যক্তি তাঁদের উদ্দেশে প্রশ্ন করতে শুরু করেন। প্রথমে তিনি জানতে চান, তাঁরা ভারত থেকে এসেছেন কি না। পরে ভারত আমেরিকার থেকে ভালো কি না, সেই প্রশ্নও করেন। ভারতীয় দম্পতি শান্তভাবেই উত্তর দেন যে দুই দেশেরই নিজস্ব ভাল দিক রয়েছে।
এরপরই পরিস্থিতি বদলে যায়। অভিযোগ, ওই ব্যক্তি দম্পতির উদ্দেশে কটূক্তি করতে শুরু করেন এবং বলেন, ‘ভারত এত ভালো হলে এখানে কেন এসেছ?’ ভারতীয় যুবক জানান, তাঁদের পরিবার ভারতে থাকে এবং তাঁরা পৃথিবী ঘুরে দেখার জন্য আমেরিকায় এসেছেন। কিন্তু তাতেও থামেননি ওই ব্যক্তি। তিনি চিৎকার করে তাঁদের আমেরিকা ছেড়ে চলে যেতে বলেন বলে অভিযোগ। পুরো ঘটনাটি প্রায় ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওতে ধরা পড়েছে।
ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই বহু মানুষ ভারতীয় দম্পতির ধৈর্যের প্রশংসা করেছেন। একইসঙ্গে আমেরিকায় ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা বর্ণবিদ্বেষ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এর আগে সম্প্রতি মার্কিনিদের ভারতবিদ্বেষী মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল দিল্লিতে সফররত মার্কো রুবিওকে। বিগত দিনে একাধিক ইস্যুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে শুরু করে স্কট বেসেন্ট, পিটার নাভারো এবং হাওয়ার্ড লাটনিককে প্রতিনিয়ত ভারতবিরোধী, জাতিবিদ্বেষী মন্তব্য করে গিয়েছেন। দিল্লি সফররত রুবিওকে আজ তা নিয়ে নাম না করে প্রশ্ন করেন ভারতীয় সাংবাদিক। সেই বাউন্সারে রীতিমত হতচকিত হয়ে পড়েন রুবিও। রবিও সাবাদিককে পালটা প্রশ্ন করেন, কে এমন মন্তব্য করেছেন? তখন সাংবাদিক বলেন, খুব ভালো করেই জানেন স্যার আমি কাজের কথা বলছি। পরে ভারতবিদ্বেষী মন্তব্য করা মার্কিনিদের স্টুপিড বলে আখ্যা দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আমেরিকান রেডিও উপস্থাপক মাইকেল স্যাভেজের একটি ভিডিও ও চিঠি শেয়ার করেন। ওই পোস্টে দাবি করা হয়, ভারত ও চীনের মতো দেশগুলো নরকের মতো এবং এসব দেশের মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে আসে কেবল সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো ভারতকে লক্ষ্য করে বেশ কিছু বিতর্কিত ও ভারত-বিরোধী মন্তব্য করেছেন। একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে পিটার নাভারো অভিযোগ করেছিলেন যে, ভারতের নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায় বা ‘ব্রাহ্মণরা’ ভারতীয় সাধারণ জনগণের ক্ষতি করে নিজেদের মুনাফা অর্জন করছে। এদিকে তিনি ভারতকে ‘ক্রেমলিনের জন্য লন্ড্রোম্যাট’। ইউক্রেন যুদ্ধকে বিতর্কিতভাবে ‘মোদীর যুদ্ধ’ বলেও আখ্যায়িত করেন। এছাড়াও তিনি সোশ্যাল মিডিয়াতেও একাধিক ভারত বিরোধী পোস্ট করেছেন নাভারো। এদিকে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য ভারতের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।