২০১৩ সালে গুগল তাঁকে কাজে নেয়নি। শেষ রাউন্ডের ইন্টারভিউয়ের বাধা অতিক্রম করতে পারেননি। আর সেই রাগিণী দাসই এবার গুগল ই্ন্ডিয়ার স্টার্ট-আপ বিভাগের প্রধান হলেন। আর তারপর রাগিণী বলেছেন, ‘সত্যিই জীবনের পূর্ণ বৃত্ত সম্পূর্ণ হল।’ যে পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। রাগিণীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অসংখ্য মানুষ। অনুপ্রাণিত হয়েছেন রাগিণীর সাফল্যে।
আপাতত গুরুগ্রামে থাকেন রাগিণী। ২০০৭ সাল থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে চেন্নাইয়ের চেট্টিনাড় বিদ্যাশ্রম থেকে পড়াশোনা করেন। তারপর ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। রাগিণী জানিয়েছেন, বিবিএতে প্রথম ক্লার্সও পেয়েছিলেন। তাছাড়াও স্নাতক স্তরে পড়াশোনার সময় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য জায়গায় ইন্টার্নশিপ করেছিলেন।
২০১২ সালে ট্রাইডেন্ট গ্রুপ ইন্ডিয়া যোগ দিয়েছিলেন রাগিণী। প্রাথমিকভাবে ঘরোয়া বাজারের দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তীতে ইউরোপ এবং আমেরিকার বাজারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল রাগিণীকে। তারপর ২০১৩ সালে ডিসেম্বরে জোম্যাটোর সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। ক্রমশ সেখানে উত্থান হতে থাকে রাগিণীর। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত জোম্যাটোয় ছিলেন।
২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে রাগিণীর জীবনে নয়া অধ্যায়ের সূচনা হয়। লিপ.ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন। অনলাইনে অ্যাপ ও অফলাইনে ক্লাবের মাধ্যমে মহিলারা পেশাদার সুযোগ, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, নিজেদের পছন্দ মতো গোষ্ঠীর সঙ্গে আলাপাচারিতার সুযোগ পেতেন। ওই প্ল্যাটফর্ম ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ওই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রাগিণী।

আর অক্টোবরে যোগ দিয়েছেন গুগলে। যিনি বণিক সংগঠন ফিকির মহিলাদের স্টার্ট-আপ সংক্রান্ত বিষয়ের চেয়ারপার্সনও। ২০২৫ সালের অগস্ট থেকে সেই দায়িত্বে আছেন। তাছাড়াও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে রবিন হুড আর্মির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রাগিণী। গুগলে নয়া দায়িত্ব পাওয়ার পরে রাগিণী জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে গুগল ও জোম্যাটোয় চাকরির চেষ্টা করেছিলেন। গুগলে শেষ রাউন্ডে ছিটকে গিয়েছিলেন। আর ১২ বছর পরে সেখানেই ফিরলেন রাগিণী।