Ram Idol in Bangladesh: বাংলাদেশের গাইবান্ধায় তৈরি হচ্ছে ৮১ ফুট উঁচু ভগবান রামের মূর্তি। এই মূর্তি নির্মাণের প্রধান উদ্যোক্তা শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হরিদাসচন্দ্র তরণী দাসকে রবিবার রাতে ঢাকার পলাশবাড়ি এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশের গোয়েন্দা বাহিনী। তাঁর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং বা বেআইনি অর্থ লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে। নিরাপত্তার নামে বিগত প্রায় দু’মাস তিনি কার্যত গৃহবন্দিই ছিলেন।
সূত্রের খবর, উত্তরা পশ্চিম থানায় বাংলাদেশের সিআইডির দায়ের করা মামলার পরে পলাশবাড়ি উপজেলার মন্দির থেকে থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয় দিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি মন্দিরে প্রবেশ করেন। তারা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে বাইরে আসতে বলেন। পরে মন্দিরের বাইরে তাঁকে একটি গাড়িতে তোলা হয়। পরে তাঁকে ঢাকায় এনে মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে রাখা হয়েছে।তাঁর গ্রেফতারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান। তিনি বলেন, ‘একটি মানি লন্ডারিং মামলায় তাঁকে আটক করেছে সিআইডি। এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মন্দির এলাকায় কোনও অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। মন্দির এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। সেখানে পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’
গত রবিবার, ১২ জুলাই সিআইডির আবেদনের পর রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় বাংলাদেশের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) এর ৪(২) ধারায় হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস-সহ অজ্ঞাতপরিচয় জনৈক আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ডিএসবি গাইবান্ধার তথ্য ও সিআইডির নির্দেশে গত ২ জুলাই অভিযোগ হরিদাসের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। প্রাথমিক তদন্তের পরে বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের দাবি, হরিদাস ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার এবং হাওয়ালার কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। সিআইডির তদন্তে অভিযুক্তের নামে পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং চারটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)-এর অ্যাকাউন্টের সব তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মোট ৯ কোটি ৩৫ লক্ষ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমা এবং ৯ কোটি ৩৫ লক্ষ ৬৫ হাজার ৫২৮ তুলে নেওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। এফআইআর-এ বলা হয়েছে, বিভিন্ন ব্যক্তি নানা সময়ে নগদ টাকা জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে মহম্মদ সুজন নামে এক ব্যক্তি ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ২ কোটি ২১ লক্ষ ৯৭ হাজার টাকা জমা দেন, যা প্রাথমিক ভাবে হাওয়ালার টাকা বলেই সন্দেহ। সিআইডির দাবি, অভিযুক্ত ও তাঁর সহযোগীরা হাওয়ালার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার করে অসাধু উপায়ে টাকা রোজগার করেছেন। সেই টাকায় নামে-বেনামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

বছর চল্লিশের হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস পলাশবাড়ির শ্রীরাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির কমিটির প্রধান। তিনি মন্দির প্রাঙ্গণে এর আগে শিব ও কৃষ্ণের বিশাল মূর্তি স্থাপন করেছেন। ৮২ ফুট উচ্চতার রামমূর্তিটি নির্মীয়মান। তবে সেটি ৯০ শতাংশ নির্মাণের কাজ হয়ে গিয়েছে। বিবাদের সূত্রপাত এই মূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের একটি উগ্রবাদী অংশ মাস দুয়েক যাবত মূর্তি সরানোর দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বক্তব্য, মূর্তিটি মন্দির প্রাঙ্গণে ঢাকা জায়গায় করলে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা পৌত্তলিকতায় বিশ্বাস করেন না। রাস্তার পাশে তাই হিন্দু দেবতার মূর্তি স্থাপন নিয়ে তারা আপত্তি তুলেছেন। এ নিয়ে অস্থির পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মূর্তি নির্মাণের কাজ স্থগিত আছে দু’মাস যাবৎ। মন্দির প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন আছে।