Rinku Singh Father Death। প্রয়াত রিঙ্কু সিংয়ের বাবা! ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই শেষ

Spread the love

রিঙ্কু সিংয়ের জীবনে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। দীর্ঘ সময় ধরে মারণব্যাধি লিভার ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পরে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন রিঙ্কুর বাবা খাচন্দ্র সিং। উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে নিজ বাসভবনে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। ​পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন ধরেই লিভার ক্যানসারে ভুগছিলেন রিঙ্কুর বাবা। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষরক্ষা হয়নি।

রিঙ্কুর কঠিন সময় পাশে আছি, বার্তা KKR-র

​খাচন্দ্রের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই), কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) টিম ম্যানেজমেন্টের তরফে গভীর শোকপ্রকাশ করা হয়েছে। রিঙ্কুর আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বার্তায় জানিয়েছে, ‘রিঙ্কু এবং তাঁর পরিবারের এই কঠিন সময়ে আমরা তাঁদের পাশে আছি। খাচন্দ্র সিংয়ের ত্যাগ সবসময় স্মরণে থাকবে।’ অনেক ক্রিকেট অনুরাগী রিঙ্কুকে সান্ত্বনা জানিয়ে লিখেছেন, ‘তোমার বাবা তোমার এই আকাশছোঁয়া সাফল্য দেখে গর্বিত হয়েছেন।’

বাবাকে গর্বিত করেছেন রিঙ্কু

আর সত্যিই বাবাকে গর্বিত করেছেন রিঙ্কু। সেই জায়গায় পৌঁছানোর জন্য এবং এই আকাশচুম্বী সাফল্যের পিছনে তাঁর বাবার অবদান অনস্বীকার্য। খাচন্দ্র পেশায় একজন এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহকারী ছিলেন। অভাব-অনটনের সংসার চালিয়েও তিনি কখনও চাননি সন্তানরা দারিদ্র্যের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে থাক। আলিগড়ের সরু গলিতে সাইকেলে করে ভারী গ্যাস সিলিন্ডার বয়ে নিয়ে যাওয়া সেই মানুষটিই ছিলেন রিঙ্কুর আসল হিরো। রিঙ্কু যখন ক্রিকেটে পা রাখছেন, তখন সংসারের হাল ধরতে তাঁকেও একসময় ঘর মোছার কাজ করতে হয়েছিল। কিন্তু খাচন্দ্র সবসময়ই চাইতেন তাঁর ছেলে যেন নিজের স্বপ্নপূরণ করেন।

রিঙ্কু প্রায়ই তার সাক্ষাৎকারে বলতেন, বাবার পরিশ্রম আর ত্যাগই তাকে আজ এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। সমর্থকদের বক্তব্য, খাচন্দ্র হয়তো সশরীরে আজ নেই। কিন্তু রিঙ্কুর প্রতিটি রানের মধ্যে, প্রতিটি জয়ের উল্লাসের মধ্যে তার বাবার সেই পরিশ্রমের গল্প অমর হয়ে থাকবে। রিঙ্কুর কোটি-কোটি ভক্ত এখন শুধু প্রার্থনা করছেন যাতে এই তরুণ ক্রিকেটার শোক কাটিয়ে দ্রুত মাঠে ফিরে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারেন। তিনি মানসিকভাবে অত্যন্ত শক্ত। বাবার অপূর্ণ স্বপ্নগুলো পূরণ করতেই তিনি মাঠে আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠবেন বলে ভক্তদের বিশ্বাস।

রিঙ্কু কি বাড়ি ফিরবেন?

এমনিতে ​২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ভারতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে রিঙ্কুকে। কিন্তু বাবার অসুস্থতার জন্য তড়িঘড়ি ভারতীয় শিবির ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার জিম্বাবোয়ে ম্যাচের আগে চেন্নাইয়ে ভারতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেন। যে ম্যাচে প্রথম একাদশে জায়গা পাননি রিঙ্কু। আগামী ১ মার্চ ইডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে নামবে ভারত। তার আগে রিঙ্কু বাড়ি ফিরবেন কিনা, সে বিষয়ে আপাতত কিছু জানানো হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *