SC raps Mamata Banerjee। ‘কেউ কল্পনাও করতে পারেননি..’.! আইপ্যাক কাণ্ডে মমতাকে ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

Spread the love

আইপ্যাক কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়লেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার শীর্ষ আদালত বলেছে, ‘এটি রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে হওয়া কোনও বিবাদ নয়। কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একটি তদন্তের মাঝপথে এসে গণতন্ত্রকে বিপন্ন করে তারপর বলতে পারেন না যে… এটিকে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যেকার বিবাদে পরিণত করবেন না। বরং এটা এমন একজনের কাজ, যিনি কাকতালীয়ভাবে একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, যা সমগ্র গণতন্ত্রকে বিপদে ফেলেছে।’ সেইসঙ্গে রীতিমতো কড়া ভাষায় শীর্ষ আদালত বলেছে যে দেশের প্রখ্যাত আইনজ্ঞরাও এমন পরিস্থিতির কথা কল্পনা করেননি।

ইডির দায়ের করা মামলা ও আইপ্যাক কাণ্ড

আর সুপ্রিম কোর্ট সেই মন্তব্য করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার অফিসারদের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে। ৩২ নম্বর ধারার আওতায় মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের আর্জি জানানো হয়। যে ইডি গত জানুয়ারিতে কলকাতায় আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাসভবন এবং সল্টলেকে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরাদর্শদাতা সংস্থার অফিসে তল্লাশি চালায়।

সবুজ ফাইল হাতে মমতা ও নথি বের করা

সেই তল্লাশির মধ্যেই আইপ্যাকের কর্ণধার এবং সংস্থার অফিসে ঢুকে যান মুখ্যমন্ত্রী (যদিও মমতা দাবি করেন যে তিনি তৃণমূল সুপ্রিমো হিসেবে যান)। প্রতীকের বাড়ি থেকে সবুজ ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন। আবার সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিস থেকে একগুচ্ছ নথি, ফাইল বের করে নিয়ে যাওয়া হয় গাড়ি করে। মমতা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে তাঁর দলের গোপন নথি, প্রার্থীতালিকা এবং কৌশল চুরি করতেই ইডি তল্লাশি চালায়।

‘আদালত ধরেই নিচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী অপরাধ করেছেন?’

গত মাসে সুপ্রিম কোর্টে যখন আইপ্যাক মামলা উঠেছিল, তখন রাজ্য সরকারকে সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পিকে মিশ্র বলেন, ইডির তদন্তে যদি মুখ্যমন্ত্রী করেন, তাহলে আপনার মতে প্রতিকারের সময় কেন্দ্রীয় সংস্থার যাওয়া উচিত রাজ্যের কাছে এবং তাদের কাছে প্রতিকার চাওয়া দরকার? যে রাজ্য সরকারের মাথায় আছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী।

বিচারপতি মিশ্রের সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন যে সুপ্রিম কোর্ট কি এখনই ধরে নিচ্ছে যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অপরাধ করেছেন? পালটা বিচারপতি মিশ্র বলেন যে শীর্ষ আদালত কোনও কিছু ধরে নিচ্ছে না। এটাই অভিযোগ উঠেছে। আদালতকে ভুল বুঝবেন না। প্রতিটি অভিযোগই নির্দিষ্ট কিছু তথ্যের ভিত্তিতে হয়। যদি কোনও তথ্য না থাকে, তাহলে তদন্ত করতে হবে। সেই কারণেই সিবিআই তদন্ত চাওয়া হয়েছে বলে জানান বিচারপতি মিশ্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *