পাঁচ রাজ্যে ভোট পর্ব মিটতেই দেশজুড়ে ভোটার তালিকা আধুনিকীকরণ করা করার কাজ আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল ভারতের নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার কমিশনের পক্ষ থেকে ১৬টি রাজ্য এবং ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনের ঘোষণা করা হয়েছে। এটি দেশব্যাপী চলমান প্রক্রিয়ার তৃতীয় পর্যায়ের অংশ। তবে আবহাওয়া ও ভৌগোলিক প্রতিকূলতার কথা মাথায় রেখে হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখকে আপাতত এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে যে ১৬টি রাজ্য ও তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নাম ঘোষণা করা হয়েছে সেই রাজ্যগুলি হল- অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, চণ্ডীগড়, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, দিল্লির ও জাতীয় রাজধানী এলাকা, ওড়িশা, পাঞ্জাব, সিকিম, ত্রিপুরা, তেলাঙ্গানা, উত্তরাখণ্ড এবং দাদরা ও নাগের হাভেল এবং দমন দিউ। ১ জুলাই থেকে এসআইআর শুরু হবে, চলবে ডিসেম্বর অবধি। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ নিবিড় সংশোধনের মাধ্যমে মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত ব্যক্তি, একই ব্যক্তির একাধিক নাম বা অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন যোগ্য ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কমিশনের দাবি, গত কয়েক বছরে বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা নিয়ে বহু অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই কারণেই এ বার আরও কড়া এবং নিবিড় যাচাই প্রক্রিয়া চালানো হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমানে দেশজুড়ে সেনসাস বা জাতীয় আদমশুমারির কাজ চলছে। প্রশাসনিক দক্ষতা এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের সঠিক ব্যবহারের স্বার্থে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই সূচিকে আদমশুমারির কাজের সাথে সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে একই প্রশাসনিক পরিকাঠামো ব্যবহার করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। প্রথম দফায় গত বছর এসআইআর বা ভোটার তালিকার নিবিড় বিশেষ সংশোধনী হয়েছিল শুধু বিহারে। এরপর পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১৩ রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। তৃতীয় দফার শেষে বাকি থাকবে শুধু হিমাচল প্রদেশ জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে যে নিয়মে এসআইআর-এর কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে, সেই ভাবেই এই প্রক্রিয়ার তৃতীয় পর্বেও বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ চলবে। সূত্রের খবর, এই প্রক্রিয়ায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই করতে পারেন বুথ লেভেল অফিসাররা বা বিএলও-রা। ২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় নাম না থাকলে কমিশনের উল্লেখিত ১২টি নথির একটি দিলেই হবে। এই পর্যায়ে, ৩.৯৪ লক্ষেরও বেশি বুথ লেভেল অফিসার প্রায় ৩৬.৭৩ কোটি ভোটারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাইয়ের কাজ করবেন। কমিশন জানিয়েছে, প্রযুক্তির সাহায্যেও তালিকা যাচাই করা হবে। আধার, জন্ম-মৃত্যুর রেকর্ড এবং সরকারি ডেটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হতে পারে তথ্য।
