Sonam Wangchuk Latest Update। সিজেপি-পাক যোগ! সিআইএ যোগ নিয়ে প্রশ্ন

Spread the love

ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি-কে ঘিরে চলা আন্দোলনে কোনও বিদেশি শক্তির যোগ রয়েছে—এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তাঁর দাবি, আন্দোলনকে সমর্থন করার আগে তিনি সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন, সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া তথ্য ও অনুসারীদের বিশ্লেষণ দেখেছেন এবং দিল্লির মাটিতে আন্দোলনের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। এসবের ভিত্তিতেই তাঁর মনে হয়েছে, আন্দোলনের পিছনে কোনও বিদেশি শক্তির নিয়ন্ত্রণ নেই।

প্রখর গুপ্তর একটি পডকাস্টে ওয়াংচুককে আন্দোলনের অর্থের উৎস এবং বিদেশি যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। মজার ছলে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কি সিআইএ-র সঙ্গে যুক্ত? উত্তরে ওয়াংচুক রসিকতা করে বলেন, তিনি যদি সিআইএ-র লোকও হন, তা হলে এখনও নিজেই তা আবিষ্কার করতে পারেননি। অত্যন্ত গোপন পদ্ধতিতে নিয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে বলেও ঠাট্টা করেন তিনি।

সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পাকিস্তান, বাংলাদেশ বা আমেরিকার সঙ্গে তাঁর কথিত যোগাযোগ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ওয়াংচুক স্বীকার করেন, তিনি নিজে কোনও ‘সফিস্টিকেটেড রিসার্চ সফটওয়্যার’ ব্যবহার করে বিস্তারিত তদন্ত করেননি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিজেপি-র বিদেশে বড় অনুসারী গোষ্ঠী রয়েছে বলে দাবি ওঠার পর তিনি সামাজিক মাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করেন।

ওয়াংচুকের দাবি, সেই বিশ্লেষণে দেখা যায়, সিজেপি-র প্রায় ৯৪ শতাংশ অনুসারী ভারতীয় এবং মাত্র ৬ শতাংশ বিদেশি। তাঁর মতে, এত কম বিদেশি অনুসারীকে উচ্চঝুঁকির ইঙ্গিত হিসেবে দেখার কারণ নেই। তিনি বলেন, বিদেশি অনুসারীর সংখ্যা যদি ৩০ শতাংশের মতো হত, তা হলে বিষয়টি নিয়ে তাঁর সন্দেহ তৈরি হতে পারত। কিন্তু ৯৪ শতাংশ ভারতীয় অনুসারী, মাঠের পরিস্থিতি এবং সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথাবার্তা—সব মিলিয়ে তিনি আন্দোলনের পিছনে কোনও বিদেশি শক্তির হাত দেখতে পাননি।

ওয়াংচুক আরও বলেন, আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কিছু কাজ বা তাঁদের অতীত নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে, কিন্তু তাঁদের কোনও বিদেশি শক্তি পরিচালনা করছে—এমন প্রমাণ তিনি পাননি। সেই কারণেই তিনি প্রকাশ্যে আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

জুন মাস থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি-সমর্থিত প্রতিবাদে ওয়াংচুক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। আন্দোলনকারীদের সমর্থনে তিনি অনির্দিষ্টকালের অনশনেও বসেছিলেন। ওয়াংচুকের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্দোলনকারীরা দিল্লিতে পৌঁছনোর পর গ্রেফতার হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। সে সময় তিনি ঘোষণা করেন, তাঁদের সঙ্গে থাকবেন এবং তাঁরা গ্রেফতার হলে অনশনে বসবেন।

তবে ভবিষ্যতে সিজেপি-র নেতৃত্ব বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ উঠলে তদন্তের বিরোধিতা করছেন না ওয়াংচুক। তাঁর মতে, কোনও নেতা মিথ্যা দাবি করলে বা নিজের পরিচয় ও যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দিলে অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিত। তবে আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *