লাদাখ প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা আইনের (এনএসএ) অধীনে সোনম ওয়াংচুককে আটকে রাখার বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমো। লাদাখকে রাজ্যের মর্যাদা দাবিতে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লেহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার কয়েকদিন পরে সোনমকে আটক করা হয়েছিল। গীতাঞ্জলি অ্যাংমো এর আগে তাঁর স্বামীকে আটকে রাখা নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছিলেন এবং অভিযোগ করেছিলেন যে ‘রাজনৈতিক’ কারণে সোনমকে ‘দেশদ্রোহী’ হিসাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সিবিআই থেকে শুরু করে আয়কর দফতরের আধিকারিকদের সব অভিযোগোর পরিপ্রেক্ষিতে সমস্ত নথি দিয়েছি, তবুও সোনমকে বদনাম করার জন্য একটি ধোঁয়াশা তৈরি করা হচ্ছে, যাতে ষষ্ঠ তফসিলের আন্দোলন দুর্বল করা যায়।’
এদিকে লেহ পুলিশের তরফে থেকে জানানো হয়েছিল, সোনম ওয়াংচুক পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলেন। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সোনমের যোগাযোগ থাকার অভিযোগের পর তাঁর স্ত্রী বলেন, ‘সোনম পাকিস্তানে একটি সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। এতে দোষের কী আছে। গত ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রসংঘ ও ডন মিডিয়া জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে একটি সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। সেই সম্মেলনে কোনও ভুল ছিল না। সেখানে সোনম মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ‘মিশন লাইফ’-এর প্রশংসা করেছিলেন।’
লাদাখের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ এসডি সিং জামওয়াল বলেছেন, সম্প্রতি এক পাকিস্তানি গুপ্তচর কর্মীকে গ্রেফতারের ঘটনায় ওয়াংচুকের নামে তদন্ত চলছে। এর উত্তরে সোনমের স্ত্রী বলেন, ‘যদি পুলিশ দাবি করে যে লাদাখে এক পাকিস্তানিকে দেখা গেছে, তাহলে আমার পালটা প্রশ্ন- আপনারা কীভাবে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অনুমতি দিলেন? লাদাখে কেন একজন পাকিস্তানি ছিল, তা স্পষ্ট করে দিতে হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে।’ এদিকে আটকের পর সোনম ওয়াংচুককে যোধপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয় এবং বর্তমানে সেখানেই বন্দি রয়েছেন তিনি।

এদিকে সোনম ওয়াংচুক এবং তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উঠেছে বিদেশি তহবিল আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ। এই আবহে প্রাথমিক তদন্ত চালাচ্ছিল সিবিআই। এদিকে লাদাখ হিংসা নিয়ে বুধবারই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি রিপোর্ট পেশ করে সোনম ওয়াংচুককে এই হিংসার জন্য দায়ী করা হয়েছিল। শাহের মন্ত্রকের রিপোর্টে বলা হয়েছে, নিজের ভাষণে আরব বসন্তের ধাঁচের বিক্ষোভের উস্কানিমূলক উল্লেখ করেছিলেন সোনম। এছাড়াও নেপালে সাম্প্রতিক জেন জি বিক্ষোভের উল্লেখও করেছিলেন সোনম। এতে করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ উঠেছে পরিবেশকর্মী সোনমের বিরুদ্ধে। লেহ-এর হিংসাত্মক সেই ঘটনাগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও আখ্যা দেওয়া হয়েছে রিপোর্টে।
রিপোর্টে জানানো হয়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ সোনমের অনশন ধর্মঘটের স্থান থেকে বিপুল সংখ্যক আন্দোলনকারী গিয়ে বিজেপির পার্টি অফিসে হামলা চালিয়েছিল। সোনমের এতে ইন্ধন ছিল। লেহ-র সরকারি প্রধানের অফিসেও হামলা চালানো হয়। তবে সকালের হিংসাত্মক ঘটনার পর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই আছে। এদিকে কেন্দ্রের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ‘তাঁর উস্কানিমূলক বক্তব্যের জেরে এতকিছু হলেও সোনম ওয়াংচুক নিজে এর মাঝে অনশন ভেঙে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিজের গ্রামে ফিরে যান। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কোনও চেষ্টাই করেননি।’ এদিকে লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর কবিন্দর গুপ্তা এই ঘটনায় হিংসা ছড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর জানিয়েছেন, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকে, সেটা বিনষ্ট করতেই হিংসার ছক তৈরি করা হয়েছে। প্রাণহানি রুখতে লেহতে কার্ফু জারি করা হয়। পরে গ্রেফতার করা হয় সোনমকে।