প্রায় মধ্যবয়সে এসে একে-অপরকে ভালোবেসে জীবনে স্বাগত জানিয়েছিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় আর শোভন চট্টোপাধ্যায়। মধ্যবয়সে এসে সংসারে সুখ না পাওয়া (শোভন-বৈশাখীর দাবি অনুসারে) দুটি মানুষ কাছাকাছি এসে ঘর বেঁধেছেন। যৌবন পেরিয়ে গেলেও, মনে তাঁরা সদা তরুণ।একসময় প্রাক্তন স্বামীর কাছে নিত্য লাঞ্ছিত হতেন বৈশাখী। মারধর, গালাগাল কিছুই বাদ যেত না, দাবি তাঁর। এক বস্ত্রে ছেড়েছিলেন প্রাক্তন স্বামী মনোজিতের সংসার। শান্তির আশ্রয় দিয়েছিলেন শোভন। কদিন পর কন্যা মহুলকেও নিয়ে এসে রাখেন নিজের কাছে। পিতৃস্নেহেই প্রেমিকার সন্তানকে আপন করে নিয়েছেন শোভন। বিয়ে না করেও, শোভনের প্রতি স্ত্রীর সব দায়িত্ব পালন করেও পিছ পা হন না।
কিছুদিন আগে শোভনকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে, ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘দুষ্টুর জন্মদিন’। তা কীভাবে শোভনের নাম ‘দুষ্টু’ পড়ল জানেন? একবার সেকথা নিজের মুখেই জানিয়েছিলেন শোভন আর বৈশাখী। সেইসময় বৈশাখীকে বলতে শোনা যায়, ‘মহুলের সঙ্গে থাকলে শোভনের অনেক অচেনা দিক আমার চোখে পড়ে। একদিন পড়ানোর সময় আমার একটু ধৈর্যচ্যুতি ঘটেছে। একটু বকাবকি করছি। তো শোভন এসে বলল আয় তো তুই আমার কাছে। ও মা দেখি কী সুন্দর রাইমস মুখস্থ করিয়ে দিল ছড়া কেটে কেটে। আমি দেখে অবাক। জানতামই না ওর এই গুণটাও আছে।’তাতে শোভন বলে ওঠেন, ‘এমনিতে মহুল খুব সিনসিয়র বাচ্চা। সেই একটা সিরিয়াল ছিল না সাস কাভি ভি বহু থি। আমি যখন ওর বয়সীই ছিলাম, কত দুষ্টু ছিলাম। মানে দুষ্টু টু দি পাওয়ার ইনফিনিটি ছিলাম। ও খুব লক্ষ্মী। এই দুষ্টুমি করতে করতেই আমার নাম দুষ্টু হয়ে গেছে।’ বলে রাখা ভালো, শোভনকে বৈশাখীর মেয়েও ‘দুষ্টু’ বলেই ডাকে।শোভন আর মহুলের মধ্যেকার সম্পর্ক নিয়ে বৈশাখী জানিয়েছিলেন, ‘শোভনের মধ্যে এত ভালোবাসা, এত টান, যে মহুল খুব সহজে ওকে আপন করে নেয়। শোভনই ওকে শিখিয়েছিল তুই আমাকে দুষ্টু বলবি, আমি তোকে দুষ্টু বলব। আমরা দুজন মিলে দুষ্টুমি করব।’
